যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিকদের নির্বাচন নিয়ে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হলেও সরকার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, “কে কী বলল তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়। ভোট হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।”
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশনের সম্ভাবনাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের কোনো সুযোগ রাখবে না।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকরা নির্বাচনকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন সচেতন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে সক্ষম হচ্ছে।
সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রু হয়ে উঠেছে এবং এ হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
দুই কূটনীতিক প্রধান উপদেষ্টার দেড় বছরের সরকার পরিচালনার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তারা জানতে চান, দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব কি না।
প্রফেসর ইউনূস বলেন, তিনি প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার বন্ধু হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। তবে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠী তাদের অপরাধ অস্বীকার করে যাওয়ায় বাংলাদেশে এখনই সে ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নেই।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদও উপস্থিত ছিলেন।



