রাষ্ট্র সংস্কারের মূল চেতনা উপেক্ষা করা হয়েছে : টিআইবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে প্রতিফলিত হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থার মতে, শতাধিক অধ্যাদেশ জারি হলেও রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য—স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দায়মুক্তি রোধ—উপেক্ষিত হয়েছে। বরং সংস্কারের নামে পুরনো আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সোমবার রাজধানীতে টিআইবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে অধ্যাদেশ জারি করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি। বিশেষ করে দুদক সংস্কারে সাজা মার্জনার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তিনি ‘দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেওয়ার ফাঁদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশে সাবেক আমলা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাধান্য, ‘সদস্য সচিব’ পদ সৃষ্টি এবং অনির্দিষ্ট সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তার নিয়োগকে টিআইবি রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার কমিশন সংস্কারেও কমিশনার নিয়োগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
টিআইবি সতর্ক করে বলেছে, যদি জুলাই সনদের চেতনা অনুযায়ী স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রকৃত সংস্কার নিশ্চিত না করা হয়, তবে এই অধ্যাদেশগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে।



