ওআইসিতে সোমালিয়ার পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও মুসলিম বিশ্বের ঐক্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এক বিশেষ অধিবেশনে সোমালিয়ার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ২২তম বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস গ্রহণযোগ্য নয়।
গত শনিবার অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এ বিষয়ে রোববার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য জানায়।
অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে ওআইসির সম্মিলিত অঙ্গীকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে একাত্ম। তিনি আরও বলেন, ওআইসি সনদের মূল ভিত্তিই হলো সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা, যা থেকে বিচ্যুতি সম্ভব নয়।
এই বিশেষ অধিবেশনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তথাকথিত ‘সোমালিল্যান্ড’-কে স্বীকৃতি দেওয়ার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর সৃষ্ট হুমকি। এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইসরায়েলের ওই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি ওআইসিকে আহ্বান জানান, এই তথাকথিত স্বীকৃতিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান ও তীব্র নিন্দা জানাতে।
তৌহিদ হোসেন সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত আফ্রিকার ওই অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, ওআইসি সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় হতে পারে না। অবৈধ তৎপরতা বা বাহ্যিক চাপ মুসলিম বিশ্বের সংহতি নষ্ট করতে পারবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপাক্ষিকতার নীতিই একতরফা সিদ্ধান্তের ঊর্ধ্বে থাকবে বলে তিনি জোর দেন।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের এই বিশেষ অধিবেশনের প্রাক্কালে দিনব্যাপী সিনিয়র কর্মকর্তাদের একটি প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চলমান নিপীড়নের নিন্দা জানান এবং ফিলিস্তিন ইস্যুকে সংস্থাটির ‘কেন্দ্রীয় বিষয়’ হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এবং সোমালিয়ার সংকটের সঙ্গে সামগ্রিক মুসলিম উম্মাহর স্বার্থের যোগসূত্র তুলে ধরে।



