বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

“মায়ের হত্যার বিচারের লিগা উকিল পাই না” স্কুল ছাত্রী লামিয়া

প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

স্টাফ রিপোর্টার (যুগের চিন্তা ২৪) : ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী মা হারা লামিয়া। মায়ের সাথে জীবন সঙ্গটা তার অল্প দিনের মধ্যেই ফুরিয়ে গেছে। ঘরে পিতার ছায়া থাকলেও মায়ের আদর নেই। পরিবারে মায়ের সকল দায়িত্ব এখেন তার ছোট্ট কাঁধে। 


বিদ্যুতের শক দিয়ে তার মাকে হত্যা করা হয়। অল্প বয়সে মাকে হারিয়ে তার জীবনে নেমেছে চরম দুর্দশা। তাকে অল্প বয়সেই পরিবারের সাথে মায়ের হত্যার বিচারের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। 


টানবাজারের র‌্যালি বাগান এলাকার নিহত আরজু বেগমের মেয়ে লামিয়া। গত ২৯ শে মার্চে টানবাজারের র‌্যালি বাগান এলাকায় মাদক বিক্রির বিরোধীতা করায় আরজু বেগমকে হত্যা করা হয়। 


নিজের মায়ের হত্যার বিচারের দাবি করে লামিয়া কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার মায়েরে যে মাইরা ফেলছে তার কি কোন বিচার হবে না? আমি স্কুলে যাই। 


আমার বাবায় আমারে পড়ালেখা করাইতে পারে না বেতনের টাকার লিগা।  মাইনসের থিকে টেকা তুইলা আমার বাবায় কেস (মামলা) চালায়। 


আমরা কি বিচার পাবো না? আমি একলা ,আমার মা ছাড়া থাকি। আমি কি বাবা , ভাইরে রাইন্ধা খাওয়াইতে পারি? বিচারের লিগা উকিল পাই না। আমার মায়ের হত্যার বিচার কি হবে না ? আমার মায়েরে মারল কিল্লিগা?  আমার মায়েরে শুধু শুধু মারছে।  

 
সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে হানিফ খান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লামিয়া তার মায়ের হত্যার বিচারের আকুতি করে এসব তিনি কথা বলেন। 


এসময় আরজু বেগমের হত্যা মামলার আসামী আইনজীবী হওয়ায় তাদের মামলা লড়তে রাজি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনেরা। 


এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নিহত আরজু বেগমের স্বামী আক্তার হোসেন,  বড় বোন পরী বেগম, বোনের বড় ছেলে মো. সাদ্দাম হোসেন। 


নিহত আরজু বেগমের বড় বোনের ছেলে ও মামলার বাদী মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, গতকাল এক উকিলের সাথে কথা বলেছিলাম তাকে আমাদের পক্ষে দাড়াতে বললে তিনি বলেন, ‘কাক কখনো কাকের মাংস খায় না। 


আমি একজন আইনজীবী হয়ে আরেকজন আইনজীবীর বিপক্ষে দাড়াবো না। যদি আমাদের সামনে ৫টা খুন করে তাও আমরা তার বিপক্ষে দাড়াবো না। বার থেকে নিষেধ করা আছে। 


জজ কোর্টের সব উকিল এই কথা বলে আমাদেরকে মামলা লড়তে না করে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে বিচার পাওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলন করে সাহায্য চাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে আসামীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করছি। 


তিনি আরো বলেন, আমরা হত্যার বিচার পাই না। তার উপর আসামিরা আমাদের উপর মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমাদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। 


আসামি আইনজীবী হওয়ায় কোন আইনজীবী আমাদের সাথে নেই। কেউ আইনজীবীর বিরুদ্ধে দাড়ায় না। আমরা গরিব বলে হত্যাকারীদের যদি শাস্তি না হয়। তাহলে আইনের উপর থেকে মানুষের ভরসা উঠে যাবে। 


উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ বিকেলে টানবাজারের র‌্যালি বাগান এলাকায় মাদক বিরোধী স্লোগান দেওয়ায় করায় এলোপাথারি লাঠি সোটা, বিদ্যুতের শক দিয়ে আরজু বেগমকে হত্যা করা হয়। 


এ ঘটনায় সেদিন রাতে নিহতের বাদী হয়ে জেলা আদালতের আইনজীবী এড. হামিদা খাতুন লিজা সহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২০ জনকে আসামী করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
 

এই বিভাগের আরো খবর