Logo
Logo
×

আইন-আদালত

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধে নির্দেশনা দিলেন হাইকোর্ট

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার-হয়রানি বন্ধে নির্দেশনা দিলেন হাইকোর্ট

ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে পুলিশ অফিসারদেরকে সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) সার্কুলার জারি করে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ সোমবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালত বলেছেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আগে সেন্ট্রাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে পরোয়ানাটির সত্যতা যাচাই করবেন। এরপরই গ্রেফতারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে জেলা জজ, মহানগর জজ, সিজিএম ও সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠাতে বলা হয়েছে। এতে নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ড ও বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন, কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে তা আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে কোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হলে তার মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়। নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। আদালতের মাধ্যমে মানুষ যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে বিরোধীপক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) রিট আবেদনটি করে।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একই সঙ্গে আরিফ নিয়াজী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গুলশান থানার তৎকালীন ওসিকে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতে শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেছেন, ২০১২ সালে গুলশানের বাসা থেকে আরিফ নিয়াজীকে একটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে একটি ভুয়া মামলা দায়ের করে ওই পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

মনজিল মোরসেদ জানান, যে আদালতে আরিফ নিয়াজীকে হাজির করা হয়েছিল, ওই আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও ভুয়া মামলার মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি প্রমাণিত হয়। পরে এসব সংবাদ প্রতিবেদন সংযুক্ত করে জনস্বার্থে এইচআরপিবি রিট আবেদনটি করে।

সরকারের পক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) জে আর খান রবিন রুলের বিরোধিতা করে আদালতকে জানান, এরইমধ্যে কেন্দ্রীয় ডাটা সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ফলে ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই।


Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন