পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি
শেখ হাসিনার ৫ বছর, আজমিনার ৭ ও টিউলিপের ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২২ পিএম
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের নামে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আজমিনা সিদ্দিককে সাত বছর এবং শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে (টিউলিপ সিদ্দিক) দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
এই মামলায় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনসহ মোট ১৪ জনকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।5
পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব মো. অলিউল্লাহ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, মাজহারুল ইসলাম এবং নায়েব আলী শরীফ।
রায়ে শেখ হাসিনা, আজমিনা সিদ্দিক ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রত্যেককে আরও ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত নির্দেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ পিপি হাফিজুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত ১৩ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছিল। সোমবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে রায় পড়া শুরু হয়।
রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। শেখ হাসিনাসহ অন্য সব আসামি পলাতক থাকায় আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
গত বছরের ৩১ জুলাই আদালত এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই বছরের ১২, ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি দুদক শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ছয়টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করে। এর মধ্যে চারটি মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলাগুলোর একটিতে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং অন্যটিতে মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আরেকটি মামলার রায় গত ১ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়। শেখ রেহানার প্লট বরাদ্দসংক্রান্ত ওই মামলায় শেখ হাসিনাকে পাঁচ বছর, শেখ রেহানাকে সাত বছর এবং টিউলিপ সিদ্দিককে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর সড়কের একটি প্লট যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও আজমিনা সিদ্দিকের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজউক কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করেন এবং টিউলিপ সিদ্দিক বিদেশে অবস্থান করেও ফোনের মাধ্যমে এ বরাদ্দে প্রভাব খাটান।
রায়ে আদালত বলেন, রাজধানীতে আবাসন সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আজমিনা সিদ্দিক মিথ্যা হলফনামা দিয়ে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে এই বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাও ফৌজদারি অসদাচরণে জড়িত ছিলেন বলে আদালত মত দেন।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এর আগে দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সেই রায় ঘোষণা করেন।



