ইউনিলিভার বাংলাদেশের ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
স্টাফ রিপোর্টার :
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রতারণার মামলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এই মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম হিরণ জানান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের পরিবেশক মাসুদ এন্ড ব্রাদার্স প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের দায়ে গত ০৭ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও এর পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাটি আদালতে দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ প্রদান করেন। তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম গত ০৫ জানুয়ারী আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তারা হলেন- সৈয়দ জিকরুল বিন জমির (ক্লাস্টার হেড, সেন্ট্রাল সাউথ ক্লাস্টার, কাস্টমার ডেভলপমেন্ট, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড), ২. এম সোয়াইব কামাল, সিনিয়র টেরিটরি ম্যানেজার (ওয়ারী), ৩. কাওসার মাহমুদ চৌধুরী, এরিয়া ম্যানেজার, সেন্ট্রাল সাউথ রিজোন, ৪. মোহাম্মদ নাহারুল ইসলাম মোল্লা, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, কনজুমার কেয়ার, ৫. জিন্নিয়া হক, ফাইন্যান্স ডিরেক্টর এবং ৬. কোম্পানী হিসেবে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড।
মামলা এবং পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, “মাসুদ এন্ড ব্রাদার্স” কে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড ওয়ারী, মানিকনগর, সদরঘাট, নবাবপুর রোড, মালিবাগ, শ্যামপুর ও মতিঝিল, এলাকার এলাকার জন্য পরিবেশক নিয়োগ করে গত ০৩/১১/২০০৯ খ্রিঃ তারিখে চুক্তিপত্র করেন। চুক্তিপত্রে বাদী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তৎকালীন মালিক ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর, এ এস এম মাসুদুর রহমান ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পক্ষ্যে তাদের কাস্টমার ডেভলপমেন্ট ডিরেক্টর মিজানুর রশিদ স্বাক্ষর করেন। বাদী প্রতিষ্ঠান পরিবেশক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে গোডাউন ভাড়া, পন্য বহনের জন্য গাড়ী ক্রয় এবং মাসিক বেতনে জনবল নিয়োগ করে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়োগ করেন।
চুক্তি বলে পরিবেশক হিসেবে চাঁনখারপুল চকবাজার সহ নির্ধারিত এলাকায় ইউনিলিভার এর পন্য লাক্স, ডাব সাবান, সানসিক্স শ্যাম্পু, ফেয়ার এন্ড লাভলী সহ ২৫০ টির ও বেশী পন্য বাজারজাত করতে থাকেন। সর্বশেষ গত ২০২৩ সালের ২৮ জানুয়ারি চুক্তি নাবায়ন করেন। বাদীর ব্যবসা পরিচালনাকালে ২০২৫ সালের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত বিবাদীদের প্রেরিত পন্যের মধ্যে প্রাপ্ত নষ্ট ডেট এক্সপেয়ার ও ডেমেজড পন্য বিবাদীদের বরাবর প্রেরন করেন যার মূল্য ৩,৭৫,০০,০০০.০০ (তিন কোটি পঁচাত্তুর লক্ষ) টাকা। চুক্তির শর্ত মোতাবেক উক্ত নষ্ট, ডেট এক্সপায়ারড ও ডেমেজড পন্যের পরিবর্তে নতুন পন্য প্রদান বা মূল্য ফেরৎ দেওয়ার কথা। কিন্তু বারবার তাগাদা দিলেও নানা অজুহাতে কালক্ষেপন করতে থাকেন। এই নিয়ে বাদী প্রতিষ্ঠানের সাথে বিবাদীদের সাথে মনমালিন্য সৃষ্টি হয়। বাদী প্রতিষ্ঠান বিবাদীদের নিকট হতে নষ্ট, মেয়াদ উত্তীর্ন ও ডেমেজ পন্যের পরিবর্তে নতুন পন্য বা মূল্য না পেয়ে বিপুল পরিমানের লোকশানের সম্মুখীন হন। এমতাবস্থায় বিবাদীরা বাদীর প্রতিষ্ঠানকে আরো ক্ষতি করার অসৎ উদ্দেশ্যে নতুন কৌশল অবলম্বন করে। সেই কৌশল হিসাবে সে সকল পন্য বাজারে কম বিক্রয় হয় তার সরবরাহ বাড়িয়ে দেয় এবং যে সকল পন্য বাজারে বেশী বিক্রয় হয় তার সরবরাহ কমিয়ে দেয়। ফলে বাজারে পন্য বিক্রয় কমে যায় ইহাতে বাদীর পন্য বিক্রয় কমিশন কমে গিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রন্থ হয়।
বিবাদীরা ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড এর পদস্থ কর্মকর্তা হয়েও অন্য পরিবেশকের নিকট হতে অবৈধ লাভবান হয়ে অত্যন্ত সুচতুরতার সাথে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাদী প্রতিষ্ঠানকে অবাস্তব ও অসামঞ্জস্য বিক্রয় টার্গেট দিয়ে এবং বাজারে কম বিক্রয় হয় এমন পন্যের বেশী সরবরাহ করে মার্কেট সেল কমিয়ে দেয়, যার ফলে বাদী প্রতিষ্ঠানের জানুয়ারি ২০২০ সাল হতে ২০২৫ বর্তমান পর্যন্ত প্রায় ১,৬৭,০০,০০০ (এক কোটি সাতষট্টি লক্ষ ) টাকার ক্ষতি হয়। আবার কোটি টাকার নষ্ট ডেট এক্সপেয়ার ও ডেমেজ পন্যের পরিবর্তে নতুন পন্য প্রদান বা মূল্য ফেরৎ প্রদান না করে নতুন পরিবেশক নিয়োগ দিয়ে ৩,৭৫,০০,০০০.০০ (তিন কোটি পঁচাত্তর লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ সহ ৮,৫৩,০০০০০.০০(আট কোটি তেপান্ন লক্ষ) টাকার ক্ষতি করার প্রমান পাওয়া গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েয়ে যে, আসামীরা বিবাদীকে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি ও হুমকি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে বাদী প্রতিষ্ঠান হাই কোর্টে বিবাদী প্রতিষ্ঠানের নামে একটি অরবিটিশন মামলা দায়ের করে।
তদন্ত কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করেন যে, ততন্তে বিবাদী সৈয়দ জিকরুল বিন জমির, এম সোয়াইব কামাল, কাওসার মাহমুদ চৌধুরী, মোহাম্মদ নাহারুল ইসলাম মোল্লা এবং জিনিয়া হকদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজসে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মাধ্যমে প্রতারণা ও ভয়ভীতির প্রদর্শনপূর্বক অপরাধে সহায়তা করার প্রমান পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।



