জুলাই কন্যা সুরভীকে কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আলোচিত জুলাই কন্যা তাহরিমা জান্নাত সুরভী। তিনি বলেন, একটি (১২ নাম্বার) ওয়ার্ডে ১২ জনের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ। যদি আমি ভিডিও করে রাখতে পারতাম তাহলে হতো।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে কারামুক্তির পর জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে সুরভী এসব কথা বলেন।
সুরভী বলেন, কারাগারে ১১ দিন ছিলাম, আমার ওপর যে পরিমাণ টর্চার হয়েছে তা বলে বুঝাতে পারব না। আমার পিঠ, মাথা ফুলে গেছে। আম্মুকে দেখিয়েছি। একটি (১২ নাম্বার) ওয়ার্ডে ১২ জনের মধ্যে ১১ জন আওয়ামী লীগ। যদি আমি ভিডিও করে রাখতে পারতাম তাহলে হতো।
তিনি বলেন, আদালতের বিচারক মামলার আইও উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওমর ফারুকের কাছে জানতে চান- এ মামলার এক নাম্বার আসামির বিরুদ্ধে এজাহার ছাড়া আর কী কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বললেন নেই, তদন্ত কর্মকর্তা ৭ দিনের রিমান্ড চাইল আর বিচারক ২ দিনের রিমান্ড দিয়ে দিল। আমি ভেবেছিলাম আমার জামিন হবে না, কারণ আমার আম্মু পারতেছিল না।
সুরভী বলেন, ১১ দিন আমি কাস্টডিতে ছিলাম, কেউ আমার খবর নিচ্ছিল না। আমার শরীরের অবস্থাও ভালো ছিল না, ঘটনার আগের দিন আমি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছি। আমি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলাম না। পরবর্তীতে রিভিশন শুনানিতে আমার জামিন হয়েছে। এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।
সুরভীর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এবং বিশ্বস্ত সাংবাদিক সূত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছেন জুলাইযোদ্ধা তারেক রেজা। তিনি বলেন, মামলার বাদী সাংবাদিক নাঈমুর রহমান দুর্জয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে একটি ছবি ব্যবহার করে নিজেকে তার ‘সন্তানতুল্য’ ও ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই প্রভাব খাটিয়েই তিনি সুরভীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ঘটনার সূত্রপাত আরও আগে। দুর্জয় একসময় সুরভীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং কক্সবাজার ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান। সুরভী সেই প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন এবং ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এর প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি জনসমক্ষে আসায় দুর্জয়ের ইগোতে লাগে।
দুর্জয় ছিলেন ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার। ঘটনার দিন দুর্জয় অফিসের কোনো অ্যাসাইনমেন্ট ছাড়াই শুধুমাত্র অসৎ উদ্দেশে সুরভীকে কাছে আনার জন্য গাজীপুরে যান। সেখানে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিতে সুরভী তাকে দেখতে পেয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ কর্তৃপক্ষ দুর্জয়কে চাকরিচ্যুত করেছে। জানা গেছে, পরবর্তীতে চলতি মাসে তিনি ‘কালবেলা’ পত্রিকায় যোগ দিয়েছেন।
মূলত সুরভীর কাছে প্রত্যাখ্যান, ফেসবুকে প্রতিবাদ, জনসমক্ষে ‘ভুয়া’ স্লোগান শোনা, চাকরি হারানোসহ সব মিলিয়ে দুর্জয় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে সংঘবদ্ধ মিডিয়া ট্রায়ালের মাধ্যমে সুরভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়।
সুরভী যেহেতু ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন, তাই প্রশাসন কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এটি স্পষ্টতই ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে করা একটি হয়রানিমূলক পদক্ষেপ।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে সুরভীর টঙ্গীর বাসায় ভিড় করেন বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক ও ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা; কিন্তু সুরভী কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি এবং বাসা থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় সুরভী বাসায় নেই। এ সময় বাসায় সুরভীর মা ও ছোট বোনকে ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি।
এদিকে দায়িত্ব অবহেলার জন্য তদন্ত কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুককে শোকজ করা হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুককে ডিপার্টমেন্টাল প্রক্রিয়ায় শোকজ করা হয়েছে।



