এখন শীত মৌসুম চলছে। যতই দিন যাচ্ছে ততই শীত আরও ঘনিয়ে আসছে। ফলে ঠান্ডায় নাজেহাল হয়ে পড়ছে মানুষ। এ সময় বাসা-বাড়ির বাইরে কোনো কাজে বের হওয়ার আগে যথেষ্ট মোটা বা গরম কাপড় পরা হয়। মাথা ও ঘাড়েও অতিরিক্ত কাপড় রাখা হয়, যেন বাতাস না লাগে। অর্থাৎ―ঠান্ডা থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।
শীতে কাপড় ঠান্ডা বাতাস থেকে শরীর রক্ষা করে ও গরম রাখে। তবে শুধু কাপড়ে ভরসা করা ঠিক নয়। শীতে খাদ্যতালিকায়ও কিছুটা পরিবর্তন আনা জরুরি। কেননা, এ সময় ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ত সঞ্চালন ধীর হয় এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে থাকে। এ জন্য শীতে এমন সব খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখে ও দীর্ঘ সময়ের জন্য শক্তি সরবরাহ করে।
শীতের সময় শুকনো ফল ও বীজ শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতে বাদাম, আখরোট, তিল ও তিসির বীজ খাওয়া উচিত। এসবে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া হলে শরীরে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ হয় এবং পেশির শক্তি বজায় থাকে। ঠান্ডার সময় এসব খেলে সহজে ক্লান্তি ভর করে না শরীরে এবং দীর্ঘ সময় উষ্ণতা অনুভব হয়।
এছাড়া শীতে গোটা শস্যদানা ও বাজরার গুরুত্বও কম নয়। ওটস, রাগি, জোয়ার বা বাজরার মতো খাবারে থাকা কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। ফলে শরীর দীর্ঘ সময় গরম থাকে এবং হঠাৎ দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে। এ কারণে সুপারফুডের তালিকায় থাকা শস্যদানাগুলো শীতে খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।
ঠান্ডা থেকে রক্ষায় এ সময় গাজর, বিট, মিষ্টি আলু ও শালগমও খেতে পারেন। এসব খাবারে থাকা ফাইবার ও ভিটামিন শরীরের হজম শক্তি উন্নত করে এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। আবার সবজি খাওয়া হলে দীর্ঘসময় পেট ভর্তি থাকে। এতে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। একইসঙ্গে শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ থাকে।
এ সময় খাদ্যতালিকায় ঘি ও স্বাস্থ্যকর চর্বিও রাখতে পারেন। যা নিয়মিত খাওয়া খেলে শরীরের তাপ ধরে রাখতে ভূমিকা রাখে। অল্প পরিমাণ ঘি বা নারকেল তেল নিয়মিত খাওয়া হলে শরীরে শক্তি বাড়ে এবং ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা পায়। এ জাতীয় চর্বি শরীরের প্রাকৃতিক উষ্ণতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
আবার আদা, রসুন, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ ও হলুদের মতো মশলাও শরীর উষ্ণ রাখতে অবদান রাখে। এসব শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং স্বাভাবিকভাবে তাপ উৎপন্ন করে। মশলাগুলো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং সর্দি-কাশির ঝুঁকি কমায়। এ জন্য নিয়মিত খাবার প্রস্তুতের সময় এসব মশলা ব্যবহার করলে শীত কিছুটা আরামদায়ক হয়ে উঠে।



