ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহির কারাদণ্ড
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম
ইরানের অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহিকে নতুন মামলায় পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই বছরের জন্য বিদেশযাত্রা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দ্য স্টেটসম্যানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) পানাহির আইনজীবী মোস্তফা নিলি এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের তেহরানের বিপ্লবী আদালতের ২৬ নম্বর শাখা পানাহির অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করে। তার আইনজীবীর দাবি, শুনানির বিষয়ে পানাহিকে কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি। গত সপ্তাহে তার ব্যাংক হিসাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা মামলার রায় সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে ঠিক কী অভিযোগে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এটি পানাহির আগের এক বছরের কারাদণ্ডের মামলা থেকে আলাদা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে সেই দণ্ড বহাল রাখে আদালত। ফলে দুটি মামলায় তার মোট কারাদণ্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় বছর এক মাস।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রমহলে পরিচিত এই নির্মাতা চাইলে বিদেশে থাকতে পারতেন। কিন্তু গত ৩০ মার্চ দেশে ফেরেন তিনি। ভ্যারাইটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পানাহি বলেছিলেন, নিজের দেশে থাকা তার প্রয়োজন। কর্তৃপক্ষ কারাদণ্ড কার্যকর করতে চাইলে তারা তা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। পানাহির বিরুদ্ধে বর্তমানে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত মাসে এর একটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যও হাজির হয়েছিলেন তিনি।
২০২৫ সালে তার পরিচালিত ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাম দ’র জেতে। ছবিটি ২০২৬ সালের অস্কারে সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে ফ্রান্সের মনোনয়ন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল এবং চূড়ান্ত মনোনয়নও পেয়েছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পানাহির বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালে তাকে গ্রেপ্তারের পর ছয় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণ, চিত্রনাট্য লেখা, সাক্ষাৎকার দেওয়া ও বিদেশ ভ্রমণের ওপর ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ২০২২ সালে আবারও গ্রেপ্তার হন তিনি এবং প্রায় সাত মাস কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পান।



