সিজেপির বিক্ষোভকারীদের ‘দেশবিরোধী শক্তি’ বলে আখ্যা দিলেন কঙ্গনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভকে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপির সংসদ সদস্য কঙ্গনা রানাওয়াত। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাদের ‘দেশবিরোধী শক্তি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটক করার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এ মন্তব্য করেন কঙ্গনা। শনিবার সন্ধ্যায় দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে কঙ্গনাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। অভিনেত্রী বলেন, দেখুন, কীভাবে মানুষ এখন এসব দেশবিরোধী শক্তিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে। পুলিশকে বাদ দিন, এখন সাধারণ মানুষও তাদের ধরবে এবং জবাবদিহি করতে বলবে। কারণ, মানুষ তাদের চিনতে শুরু করেছে।
কঙ্গনা বর্তমানে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসনের সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে দেশের সুরক্ষায় বিভিন্ন শক্তি কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন কঙ্গনা। তবে তার মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, এই প্রক্রিয়ায় অনেক ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা চান।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই সিজেপির শীর্ষ নেতাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে দিল্লিজুড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশকেই দিনের শেষ দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভ ঠেকাতে শনিবার দিল্লিতে প্রায় ৪১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীসহ শিক্ষার্থী, আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতারাও পুলিশের অভিযানের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেয়া হয়।
এমনকি রোববারও (১১ অক্টোবর) দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় কড়াকড়ি বজায় রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ। যন্তর মন্তর বন্ধ রাখা, রাজধানীর প্রবেশপথে ব্যারিকেড দেওয়া এবং ৩০টি স্থানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। তবে সিজেপি আবারও মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে, মেট্রো ও ট্রেন পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ তুলে করা একটি আবেদনের শুনানি করার কথা সুপ্রিম কোর্টের।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলনকে ঘিরে একদিকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ এবং কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।



