সম্মানসূচক ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
বলিউডে প্রায় তিন দশকের পথচলা। দীর্ঘ এই সময়ে অভিনয়ের নানা বাঁকে নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন নতুন করে। পর্দায় তুলে ধরেছেন বিনোদনের পাশাপাশি সমাজ ও জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ গল্প। সেই দীর্ঘ ক্যারিয়ার এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি এবার মিলল একাডেমিক সম্মাননায়। সম্মানসূচক ডক্টরেট পেলেন বলিউড অভিনেত্রী রানী মুখার্জি।
অস্ট্রেলিয়ার লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘অনারারি ডক্টর অব লেটার্স’ ডিগ্রিতে ভূষিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে শাহরুখ খানের পর দ্বিতীয় ভারতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান অর্জন করলেন রানী।
অভিনয়জীবনে একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে দেখা গেছে তাকে। তবে শুধু চরিত্রের বৈচিত্র্য নয়, সমাজের নানা অসঙ্গতি, নারী ক্ষমতায়ন এবং মানবিক মূল্যবোধকে সামনে আনার গল্পেও কাজ করেছেন তিনি। তার অভিনীত বেশ কিছু সিনেমা দর্শককে নিছক বিনোদন দেওয়ার বাইরে গিয়ে সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার এই অবদানও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
ডক্টরেট পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রানী বলেন, ‘লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতি আমার জীবনের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। আমার বিশ্বাস, একটি ভালো সিনেমা কেবল দর্শকের বিনোদনের মাধ্যম নয়; মানুষের চিন্তা ও অনুভূতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।’
অভিনয় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের একটি নির্দিষ্ট দর্শন রয়েছে রানীর। তার ভাষ্য, যে গল্প প্রথমে তার হৃদয়কে স্পর্শ করে, সেই গল্পের প্রতিই তার আগ্রহ তৈরি হয়। বিশেষ করে এমন গল্প, যেগুলো বলা জরুরি, মানুষকে অনুপ্রাণিত করে কিংবা তাদের ক্ষমতায়নের বার্তা দেয়, সেসব কাজকে তিনি আলাদা গুরুত্ব দিয়েছেন।
রানীর কাছে একজন শিল্পীর দায়িত্বও শুধু ক্যামেরার সামনে অভিনয় করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতীয় সিনেমা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সময় একজন শিল্পী অজান্তেই নিজের দেশের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন বলে মনে করেন তিনি।
এই ভাবনা থেকেই নিজের ক্যারিয়ারের সাফল্যকেও ভিন্নভাবে দেখেন রানী। তার অভিনীত কোনো একটি সিনেমা যদি একজন দর্শককেও ভারত কিংবা ভারতীয় নারীদের সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখায়, তাহলে সেটিই তার কাছে বড় অর্জন। এবার সেই দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতিই যুক্ত হলো সম্মানসূচক ডক্টরেটের তালিকায়।



