
প্রিন্ট: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৩৯ পিএম
আফজাল হোসেনের জন্মদিন তারার মেলায় পরিণত

অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:৩৫ পিএম

ছবি-সংগৃহীত
নন্দিত অভিনয়শিল্পী,চিত্রকর, আফজাল হোসেনের জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শেষে এই অনুষ্ঠান তারার মেলায় পরিণত হয়।
নন্দিত অভিনয়শিল্পী,চিত্রকর,পরিচালক আফজাল হোসেনের কাছে জীবনটা সুন্দরভাবে উপভোগের। তিনিও নানাভাবে উপভোগ করে থাকেন। শিল্পের নানান মাধ্যমে বিচরণের কারণে জীবনকে উপভোগের ব্যাপারটা তাঁর জন্য আরও সহজ হয়। তা ছাড়া তিনি নিজেও জীবনটাকে খুব সহজভাবেই দেখে থাকেন। সেই জীবনটা আজ ৭১ বছরে পদার্পণ করেছে। আফজাল হোসেনের ৭১ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে চ্যানেল আই তাঁদের নিয়মিত আয়োজন তারকাকথনকে বিশেষ অনুষ্ঠানে পরিণত করে। এদিন আফজাল হোসেনকে শুভেচ্ছা জানাতে ও তাঁকে নিয়ে কথা বলতে স্টুডিওতে তারার মেলা বসে।
এদিন দুপুরে চ্যানেল আই স্টুডিওতে জমকালো পরিবেশে বসে দেশের এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের জন্মোৎসব। তারকা কথনের বিশেষ এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায় ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব ত্রপা মজুমদার। আফজাল হোসেনের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা-আবুল হায়াত,আফসানা মিমি, চঞ্চল চৌধুরী ও মডেল নোবেল। এ ছাড়া আফজাল হোসেনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনোদন জগতের অনেকেই বার্তা দিয়েছেন,ছবি শেয়ার করেছেন।
অনুষ্ঠানে আফজাল হোসেনকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেন প্রবীণ অভিনেতা আবুল হায়াত। এরপর কেক কেটে উদ্যাপন করা হয় জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানে একে একে অতিথিরা স্মৃতিচারণা করেন এই বহুমুখী শিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্ক নিয়ে।
আফসানা মিমি বলেন,‘আফজাল ভাই আমাদের কাছে ছিলেন হিরো। তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠা, সৌন্দর্যবোধ, আর নির্মাণশৈলী আমাদের আজও প্রেরণা দেয়।’ এ ছাড়া ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হন আফজাল হোসেনের দীর্ঘদিনের বন্ধু,অভিনেত্রী ও মডেল শম্পা রেজা। তিনি বলেন,‘আমাদের বন্ধুত্বে কখনোই কৃত্রিমতা ছিল না। আফজাল সব সময় একজন গম্ভীর, চিন্তাশীল অথচ হাসিখুশি বন্ধু।’
১৯৫৪ সালের ১৯ জুলাই সাতক্ষীরায় জন্মগ্রহণ করেন আফজাল হোসেন। ১৯৭০ দশকে মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে তাঁর হাতেখড়ি হলেও আশির দশকে টেলিভিশন নাটকে আবির্ভূত হওয়ার পর তিনি হয়ে ওঠেন ঘরোয়া দর্শকের প্রিয় মুখ। সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে তাঁর গড়া জনপ্রিয় জুটি তখন ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে ওঠে। ‘দুই জীবন’, ‘নতুন বউ’, ‘পালাবি কোথায়’-এর মতো চলচ্চিত্রেও তিনি রেখেছেন তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বিজ্ঞাপন নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং সাহিত্যচর্চায়ও সক্রিয় থাকেন। তাঁর কবিতার বই, চিত্রকর্ম, নির্মিত নাটক ও বিজ্ঞাপন আজও অনুপ্রেরণা হয়ে আছে নবীনদের কাছে। ২০২২ সালে একুশে পদক লাভ করেন এই গুণীজন।
জন্মদিন উদ্যাপনে আফজাল হোসেন খুব একটা উৎসাহী নন। তার পরও এই দিনে অনেকে তাঁকে নিয়ে ফেসবুকে লিখে থাকেন। কেমন লাগে এমন জানতে চাইলে আফজাল বলেন, ‘এটা তো সৌভাগ্যের ব্যাপার যে মানুষ আলাদা করে দিনটি মনে রাখেন। সুচিন্তিত যেকোনো বিষয় আমার ভালো লাগে। শুভ জন্মদিন লেখা একটি বিষয়,তার পরও মানুষ আলাদা করে কিছু লিখেছেন, তা ভালো লাগে। বেশি আনন্দের বিষয় হচ্ছে,বাচ্চারা বাসায় এটা নিয়ে বেশ মেতে থাকে। দিনটায় উৎসব করে ওদের মতো করে। ওদের জন্যই আসলে জন্মদিনটা হয়।’
একেকজনের কাছে জীবন একেক রকম, আপনার কাছে আসলে জীবনটা কী—এমন প্রশ্নে আফজালের মন্তব্যটা এ রকম,‘জীবনকে আগে যেভাবে দেখতাম,এখনো সেভাবেই দেখি। আমার মতে জীবনটা সুন্দরভাবে উপভোগের। আমার নানান সুযোগ রয়েছে, আমি সেটি ছবি এঁকে উপভোগ করতে পারি। ক্রিয়েটিভ নানান কাজের মধ্যে থেকে উপভোগ করতে পারি। অভিনয় করে উপভোগ করতে পারি, লিখে উপভোগ করতে পারি এবং কিছু না করে শুয়ে-বসেও উপভোগ করতে পারি। আমি কোনো না কোনোভাবে আসলে জীবনটা উপভোগ করতে চাই। আমার এ রকম কোনো প্রয়োজন নেই—এটা হতে চাই,ওটা হতে হবে। আমার জীবনে কোনো হওয়া-হউয়ি নেই। দিন ও বছর কাটুক একটি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে,যেন সমৃদ্ধ হই। চিরকালই আমি সেটি করে আসছি। অ্যাট দ্য এন্ড, লাইফে হ্যাপি হওয়া এবং হ্যাপি ফিল করাটা সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট।’ সূত্র : প্রথম আলো