Logo
Logo
×

শিক্ষা

চুয়েট অচল: ৫ জনকে নিয়ে উপাচার্যের ভার্চুয়াল সিন্ডিকেট সভা, যোগ দেননি শিক্ষক প্রতিনিধিরা

Icon

চুয়েট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

চুয়েট অচল: ৫ জনকে নিয়ে উপাচার্যের ভার্চুয়াল সিন্ডিকেট সভা, যোগ দেননি শিক্ষক প্রতিনিধিরা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফুল আলমের সভাপতিত্বে শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত এ সভায় কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি যোগ দেননি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় জুমের মাধ্যমে সভাটি আহ্বান করেন উপাচার্য। মুঠোফোনে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে সভার কথা জানানো হয় সিন্ডিকেট সদস্যদের।

এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক ভবনে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশি পাহারায় সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপক শরীফুল আলমকে। পরে শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চুয়েট সূত্র জানায়, উপাচার্য ছাড়াও সভায় পাঁচজন সিন্ডিকেট সদস্য অংশ নেন। তারা হলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিদুর রহমান এবং চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক প্রতিনিধি সভায় যোগ দেননি। এসএমএসের মাধ্যমে সভা আহ্বানের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। বর্তমানে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং অসহযোগ আন্দোলন চলছে।

সিন্ডিকেট সভার কার্যপ্রণালীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সামিউন বশির।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি, তিনি সিন্ডিকেট সদস্যদের সভায় অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে খুদে বার্তা পাঠিয়েছেন। যদিও এসএমএসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা যায় কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি চলমান আন্দোলনের মধ্যে আছি। বেশ কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্য আমাদের শিক্ষক সমিতিরও নেতা। তাই যৌক্তিক কারণেই তারা সভায় যোগ দেননি।’

চুয়েটের সিন্ডিকেট সদস্য ও পরিকল্পনা ও স্থাপত্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রাশিদুল হাসান শুক্রবার সন্ধ্যায় সভার নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘উপাচার্য শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় একটি ভার্চুয়াল সিন্ডিকেট সভা ডেকেছিলেন। মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে এটি জানানো হয়েছে। তবে আমি বর্তমানে ছুটিতে থাকায় সভায় যোগ দিতে পারিনি।’

সভায় ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা নিরসন এবং নিয়মিত ক্লাস চালুর পথ খুঁজে বের করার বিষয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি পর্যালোচনা করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন সিন্ডিকেট সদস্যরা।

সভায় সম্ভাব্য সেশনজট এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে ব্যাঘাত ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে নিয়মিত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সভায় অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিন্ডিকেট সদস্য জানান, ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ও পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন অংশীজনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সব অংশীজনের মতামত পর্যালোচনা করে অচলাবস্থা নিরসন ও একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি বা পরামর্শক দল গঠনের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

এ বিষয়ে চুয়েট সিন্ডিকেট সদস্য ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সভায় বড় ধরনের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং ক্যাম্পাসের সংকট মোকাবিলায় উপাচার্যকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা উপাচার্যকে সবার সঙ্গে কথা বলতে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছি। আমরা তাকে জানিয়েছি, আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছি।’

চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মধ্যে গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন