মিউজিক ইভিনিংয়ে সুরের মূর্ছনায় যাত্রা শুরু রাবি মিউজিক সোসাইটির
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততা ছাপিয়ে গানের সুরে মুখর হয়ে উঠল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন ধারার সংগীত পরিবেশনায় তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক আবহ। এমনই এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ‘রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মিউজিক সোসাইটি’। সংগীতপ্রেমী শিক্ষার্থীদের একত্র করা এবং ক্যাম্পাসে সংগীতচর্চার পরিসর আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়ে সংগঠনটির পথচলা শুরু হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজি একাডেমিক ভবনের সামনে ‘মিউজিক ইভিনিং’ শীর্ষক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশাত্মবোধক গানসহ বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা। তাঁদের পরিবেশনায় সন্ধ্যার আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
সংগঠনটির সভাপতি অনিন্দ্য অধিকারী রুদ্র বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সংগীতানুরাগীকে সঙ্গে নিয়েই তাঁদের এ যাত্রা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সংগীতপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষার্থীকে এই যৌথ যাত্রায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনটির কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ক্যাম্পাসে সংগীতচর্চার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে। পাশাপাশি সংগীতের প্রতি আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি
প্রথম আয়োজনে অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী নম্রতা বর্মন সেতু। তিনি বলেন, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মিউজিক সোসাইটির মাধ্যমে সংগীত নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করার পাশাপাশি আনন্দঘন মুহূর্ত উদযাপনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সংগীত পরিবেশনের দক্ষতা অর্জনেও সংগঠনটি ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে সংগীত প্রতিভা থাকলেও মঞ্চে পরিবেশনার ক্ষেত্রে ভয় ও দ্বিধা কাজ করে। এ সংগঠনের মাধ্যমে তাঁরা সেই সংকোচ কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন। সংগীত নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী ও উৎসাহী সবাইকে সোসাইটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ ও বন্ধন দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে সংগীত এমন একটি মাধ্যম, যা ভিন্ন বিভাগ ও ভিন্ন আগ্রহের শিক্ষার্থীদের একই সুরে একত্র করতে পারে। সেই বিবেচনায় রাজশাহী ইউনিভার্সিটি মিউজিক সোসাইটির আত্মপ্রকাশ ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক পরিসরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে।
তবে সংগঠনটির এ যাত্রা কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে নিয়মিত সংগীতচর্চা, নতুন শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধারার সংগীতকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে সংগঠনটি ক্যাম্পাসে সংগীতচর্চার একটি সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে।
‘মিউজিক ইভিনিং’-এর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এ পথচলা তাই কেবল একটি সংগীতানুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ক্যাম্পাসের সংগীতপ্রেমীদের একত্র করা, সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি এবং সাংস্কৃতিক চর্চাকে আরও প্রাণবন্ত করার একটি সম্মিলিত উদ্যোগ।



