ভেরিফিকেশনের চাকরিপ্রার্থীদের বাতিলের প্রতিবাদে রাকসুর মানববন্ধন
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
সরকারি চাকরিকে দলীয়করণের উদ্দেশ্যে ভেরিফিকেশনের নামে পাশকৃত প্রার্থীদের অবৈধভাবে বাতিলের দাবি তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) প্রতিনিধিরা। এ ধরনের প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানা তারা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে রাকসুর ব্যানারের আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এর প্রতিবাদ জানান তারা।
মানববন্ধনে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোর প্রতিটির বিরুদ্ধে মাঠে নেমে কথা না বলা পর্যন্ত সমাধান হচ্ছে না। বারবার আমাদের মাঠে নামতে হচ্ছে। সারা দেশে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, সর্বাঙ্গে ব্যথা হলে একটি নির্দিষ্ট ওষুধের মতো আন্দোলনই যেন সমাধানের পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভেরিফিকেশনের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর যে ধরনের হয়রানি ও জুলুম করা হয়েছে, আমরা তার সাক্ষী। আমরা শিক্ষার্থীদের বোবা কান্না দেখেছি। সেই কান্না যদি তারেক রহমানের মসনদ কাঁপিয়ে দেয়, তাহলে সেই মসনদ কাঁপার আগেই তাঁকে সতর্ক করার জন্য আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি।’
ভিপি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দলীয়করণের যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, সেটি সফল না হওয়ায় এখন ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে দলীয়করণের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এই ধরনের প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘এসব ফয়সালা বন্ধ করুন। তা না হলে দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য মাঠে নামার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেবে। শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।’
রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘গত সাত মাসে শিক্ষামন্ত্রীর কার্যক্রম স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থাকে সংস্কার করার পরিবর্তে সেটিকে আরও সংকটের দিকে নেওয়া হচ্ছে। তিনি চাইলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের নতুন মাত্রা যোগ করছেন।’
তিনি বলেন, ‘এই সাত মাসে এমন কোনো পদক্ষেপ কি আছে, যার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ কথা বলেনি? শিক্ষার্থীদের আবেগ নিয়ে খেলার জন্য ভেরিফিকেশনের নামে এত দেরি করার কোনো প্রয়োজন নেই। ভেরিফিকেশন যদি এতই প্রয়োজন হয়, তাহলে অনার্স শেষ করে কেউ যখন চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেবে, তখনই তা করা যেতে পারে। লিখিত, প্রিলিমিনারি ও ভাইভা শেষ হওয়ার পর ভেরিফিকেশনের নামে শিক্ষার্থীদের সামনে অনিশ্চয়তা তৈরি করার প্রয়োজন কী?’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। কিন্তু সেই সময় আমরা যে মৌলিক সংস্কারের কথা বলেছিলাম, সেটি করা হয়নি। অন্য অনেক বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও শিক্ষা সংস্কারের জন্য কার্যকর কোনো কাঠামো তৈরি করা হয়নি। এখন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাজকে তার ফল ভোগ করতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রসমাজকে বলব, আপনারা কথা বলুন। শিক্ষকসমাজকে বলব, আপনারাও কথা বলুন। গণমাধ্যমকে বলব, আপনারাও কথা বলুন। প্রত্যেক জায়গা থেকে কথা বলতে হবে। তা না হলে পুরোনো বন্দোবস্ত আবার ফিরে আসবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, আইন ও বিচার- সব ক্ষেত্রেই যদি পুরোনো কাঠামো ফিরে আসে, তাহলে সংস্কারের যে আলোচনা হয়েছে, তার কোনো অর্থ থাকবে না।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক জায়গাগুলোতে যদি আপনারা হাত দেন এবং শিক্ষার্থীদের আবার সেই অবস্থানে নিয়ে যেতে চান, তাহলে এর ফল ভালো হবে না। তাই এখনই শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’
রাকসুর মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা হাফসা বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে এটি নতুন কোনো কোটা বা প্রার্থী বাদ দেওয়ার কৌশল কি না, সে প্রশ্ন থেকে যায়। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। কিন্তু কোনো কারণ না দেখিয়ে এভাবে প্রার্থী বাদ দেওয়া প্রকারান্তরে প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে দলীয়করণের চেষ্টা।’
মানববন্ধনে রাকসুর এজিএস, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের বিভিন্ন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।



