Logo
Logo
×

শিক্ষা

বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) তাজুল ইসলামের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) তাজুল ইসলামের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধীনে সফলভাবে পিএইচডি (ডক্টর অব ফিলোসফি) ডিগ্রি অর্জন করেছেন বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তাজুল ইসলাম। গত ১৩ আগস্ট ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই ডিগ্রি প্রদান করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশে মান্ধাতা আমলের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা: বিকল্পের সন্ধানে’ এবং ইংরেজিতে: ‘Archaic Quandary of Criminal Justice System in Bangladesh: Quest for the Alternative’। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন খ্যাতনামা অধ্যাপক এর তত্ত্বাবধানে এই গবেষণা কর্মটি সম্পন্ন করেন।

তার এই গবেষণায় বাংলাদেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অতি পুরাতন ফৌজদারি আইন তথা ২০০ বছরের পুরোনো ব্রিটিশদের তৈরি আইনকে আরও সময়োপযোগী করে দ্রুত মামলা বিচার নিষ্পত্তি করা যায় সে বিষয় কিছু পরিবর্তন ও বিকল্পের সন্ধান করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। তাতে করে বিদ্যমান পুরাতন ফৌজদারি আইনসমূহ আন্তর্জাতিক বেস্ট প্র্যাকটিসের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্ধন করে দেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার আনা যায় তা সুচারুরূপে আলোকপাত করা হয়েছে। গবেষণার মৌখিক পরীক্ষায় (Viva-voce) দেশীয়-বিদেশি খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও গবেষকগণ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় ড. মো. তাজুল ইসলাম তার এই অর্জনের জন্য পরম করুণাময়, তার শিক্ষক, গবেষক দল এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে তিনি এই গবেষণালব্ধ জ্ঞান দেশের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান।

উল্লেখ্য, ড. মো. তাজুল ইসলাম বর্তমানে মেহেরপুর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) হিসেবে কর্মরত। ১৯৮৪ সালের ৩১ জানুয়ারি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০০ সালে এসএসসি ও ২০০২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে ২০০৬ সালে এলএলবি (অনার্স) ও ২০০৭ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি ও ক্রিমিনাল জাস্টিস বিভাগ থেকে মাস্টার্স এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ থেকে বিশেষ ডিগ্রি লাভ করেন। 

জনাব ড. ইসলাম প্রথমবারেই ৩য় বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে ‘সহকারী জজ হিসেবে খুলনা জেলা জজশিপে যোগদান করেন। অতঃপর পদোন্নতি পেয়ে ‘সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ঢাকায় এবং যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে ঠাকুরগাঁও, মেহেরপুর এবং ঝিনাইদহ জেলা জজশিপে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা জজশিপে কাজ করেছেন। ইতোপূর্বে এ বিচারক যে আদালতেই দায়িত্বে ছিলেন সেখানেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। মামলাজট কমাতে সক্ষম হয়েছেন। যশোরে বদলির আগে তাজুল ইসলাম ছিলেন কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে ২০২২ সালে ৫৫টি হত্যা মামলা নিষ্পত্তি করে তিনি রেকর্ড গড়েন। 

২০০৮ সালে সহকারী জজ হিসেবে বিচারকের কর্মজীবন শুরু করা ড. মো. তাজুল ইসলাম স্বপ্ন দেখেন মামলাজট মুক্ত বিচার বিভাগ। স্বপ্ন দেখেন কীভাবে বিচারপ্রার্থী জনগণকে অতিদ্রুত ন্যায়বিচার দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করা যায়। তাঁর স্বপ্ন একদিন মামলাজট মুক্ত বিচার বিভাগ হবেই। তার বিচারিক কাজ দেখেছেন এমন ব্যক্তিদের ভাষ্য, স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজের দায়িত্ব অত্যন্ত সুচারুরূপে আইনানুযায়ী পালনে সদা সচেষ্ট বিচারক ড. মো. তাজুল ইসলাম। 

তিনি তার লেখনীর মাধ্যমে মামলাজট ও ন্যায়বিচার প্রদানের স্বপ্নের বীজ বুনে দেন হাজারো আইন শিক্ষার্থীর মনোজগতে। মানুষকে আইন বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। উদার, মানবিক ও অত্যন্ত সরল জীবন-যাপনকারী ড. মো. তাজুল ইসলাম তারুণ্য এবং বিজ্ঞতার মিশেলে একজন চমৎকার গুণী মানুষও। তাঁর সততা, দেশপ্রেম, পরিশ্রম ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে তার উচ্চ মানসিকতা দেশের ৪৪ লাখ মামলাজটের মধ্যে কিছুটা আশার আলো হিসেবে প্রতিভাত হয়।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন