শিক্ষাখাতে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ, দক্ষ শিক্ষক তৈরির তাগিদ শিক্ষাবিদদের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪০ এএম
প্রশ্নপত্র ফাঁস, অটোপাস, শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ, ক্যাম্পাসে ভিন্নমত দমন। নানা অনিয়ম-অসঙ্গতিতে নাজুক ছিল গত দেড় দশকের শিক্ষাখাত। এমন দশা থেকে টেনে তোলার দায়িত্ব পড়ে বিএনপি সরকারের কাঁধে।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এরই মধ্যে প্রাথমিকে চালু হয়েছে ‘মিড-ডে মিল’। আর চলতি মাসেই শুরু হচ্ছে বিনা মূল্যে স্কুলড্রেস বিতরণ কর্মসূচি। এ ছাড়া, দেয়া হয়েছে শিক্ষকদের আটকে থাকা অবসর ভাতাও। সেইসঙ্গে, পর্যায়েক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের অংশ হিসেবে, শিক্ষাখাতে বাজেট রাখা হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা টোটাল একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করার কাজ করছি। লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অ্যাসেসমেন্ট, এআই বেসড অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম, স্কুল ম্যানেজমেন্ট ইআরপি সিস্টেম। এটির জন্য টিচারদেরও তৈরি হতে হবে, ট্রেনড হতে হবে। ক্লাসরুমটা রেডি হতে হবে—এগুলো লম্বা প্রসেস, এক রাতের প্রসেস না। এই সবকিছুরই কাজ শুরু হয়ে গেছে।
তবে এই সময়ে কিছু বিতর্কেও পড়তে হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় এইচএসসি পরীক্ষা এবং মন্ত্রীর আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। সমালোচনার মুখে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয় সরকারকে। এ ছাড়া, সম্প্রতি রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় উত্তপ্ত হয় শিক্ষাঙ্গন।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই ছয় মাসে নতুন শিক্ষা কমিশন গঠন না করাটা সরকারের বড় দুর্বলতা। কেননা, দীর্ঘদিনের সংকট শুধু নতুন প্রকল্প দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, শিক্ষায় অগ্রাধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে একটা কমিশন এবং সেই কমিশনকে যদি দায়িত্ব দেয়া হয় যে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা মর্যাদার বিষয়টা। স্থায়ী বেতন কমিশন শিক্ষকদের জন্য অতি জরুরি হয়ে পড়েছে।
শিক্ষাবিদদের পরামর্শ, শুধু অবকাঠামো নির্মাণে অর্থ ব্যয় না করে, শ্রেণিকক্ষে মেধাবী শিক্ষক ও পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারকে মনোযোগ হওয়ার পরামর্শ শিক্ষাবদিদের।
শিক্ষাবিদ মজিবুর রহমান বলেন, সবার আগে নীতিমালাটা হওয়া উচিত যে যোগ্যদেরকে-দক্ষদেরকে আমি শিক্ষকতা নিয়ে আসব। কারিকুলাম, টেক্সটবুক, টিচার লার্নিং প্রসেস, পরিকল্পনা ঘাটতি থাকলেও ওই মানসম্মত শিক্ষক সেই ঘাটতিগুলো দূর করে ফেলতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে, আগামী বছর থেকে মাধ্যমিকে কারিগরি শিক্ষা ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা, পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং গবেষণায় ইনোভেশন গ্র্যান্ট চালুসহ বেশ কিছু উদ্যোগ।



