জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিতে রাবিতে ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
‘ন্যায্যতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির পথে, জীবাশ্ম-মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ি একসাথে’ স্লোগানে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক ২০২৬ কর্মসূচি।
আজ শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইন গেটে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এসময় মানববন্ধনকারীদের কয়লা-গ্যাসে ভর্তুকি নয় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ চাই, সবার জন্য সাশ্রয়ী-জ্বালানী চাই, আমাদের জেলায় নবায়যোগ্য জ্বালানি চাই, জীবাশ্ম জ্বালানীর যুগ শেষ, নবায়নযোগ্য জালানীর সময় সহ বিভিন্ন প্লেকার্ড প্রদর্শন করেন।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের সমস্যা নয়, এটি বর্তমান বিশ্বের বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত গরম, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরার মতো দুর্যোগের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিবেশ ধ্বংসের প্রতিবাদ জানাতেই এ ধরনের ক্লাইমেট স্ট্রাইক আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরা হয়।
তারা বলেন, ‘Climate Justice’ বা জলবায়ু ন্যায়বিচার বলতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সবার প্রতি ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করাকে বোঝায়। যারা সবচেয়ে কম দূষণ করে, তারাই অনেক সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়। তাই বেশি দূষণকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, ‘জলবায়ু সংকট আজ শুধু পরিবেশের নয়, মানবতারও বড় হুমকি। শিল্পকারখানা স্থাপন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি না। এর প্রভাব তীব্র দাবদাহ, ঋতুচক্রের পরিবর্তন ও নানা দুর্যোগের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তাই দল-মত, শ্রেণি-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।’
এসময় প্রজেক্ট আর্থকেয়ারের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আররাফি সিরাজী অন্তর বলেন, ‘জলবায়ু সংকট এখন আমাদের বাস্তবতা। আমরা শুধু প্রতিবাদ করতে আসিনি, পরিবর্তনের দাবিও জানাতে এসেছি। তরুণদের এই কণ্ঠস্বর প্রমাণ করে, আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব নই।’
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু রক্ষা করা মানে শুধু মানুষের জন্য নয়, পৃথিবীর সব প্রাণের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতিযোগিতা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও অস্ত্র প্রতিযোগিতার কারণে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, সুইডিশ জলবায়ু কর্মী Greta Thunberg ২০১৮ সালে “Fridays for Future” আন্দোলনের সূচনা করেন। তার উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী তরুণদের জলবায়ু আন্দোলনে যুক্ত করে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, একই দিনে দেশের ৫০টি জেলায় একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠনের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।



