রবিতে জামায়াত-শিবিরের ‘গুপ্ত’ রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শাখা ছাত্রদলের দেয়াল লিখন
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রদল জামায়াত-শিবিরের ‘গুপ্ত’ রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন। সুষ্ঠু ধারার রাজনীতিতে ফিরে না আসলে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুরাদমে নিষিদ্ধ করার হুশিয়ারও দেন তারা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ছাত্রদলের দলীয় টেন্টের পাশে দেয়াল লিখনের মাধ্যমে তারা এই দাবি জানান।
দেয়াল লিখন কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদল সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে জামায়াত-শিবির নিজেদেরকে ইসলামিক পরিচয় নিজেদেরকে মুখ উন্মোচন করে বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কিভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ করা যায়, কিভাবে শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করা যায়—এই ষড়যন্ত্র সবসময় লিপ্ত থাকে। তারা কখনই নিজেদেরকে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ে নিজেদেরকে রূপ প্রদান করে না। তারা নিজেদেরকে আড়াল রেখে, গোপন রেখে, গুপ্ত পরিচয়ে তারা বিগত সময়ে ছাত্রলীগের লুঙ্গি তলে থেকে রাজনীতি করে, হেলমেট পরে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশে যারা আন্দোলনমুখী ছিলেন তাদেরকে রক্তাক্ত করেছে।’
এই ছাত্রদল নেতা বলেন, ‘এই গুপ্ত কোনো একটি বাহিনী নয়, এটি ইসলামি ছাত্রশিবির নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন। যারা ৭১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল, পাকিস্তানের পক্ষ হয়ে আমাদের বাংলাদেশের নারীদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, ধর্ষণ করেছে। এখনও ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে তারা সেই মব কালচারের মাধ্যমে, গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে হামলা, রক্তাক্ত করা, রগ কাটা, হত্যা করা এসব রাজনীতির মধ্যে তারা এখনও জড়িত আছে।’
রাহী বলেন, ‘শিবিরকে শিবির বললে তাদের লোম খাড়া হয়ে যায়। তাদেরকে গুপ্ত বললে তাদের লোম খাড়া হয়ে যায়, তাদেরকে রাজাকার বললে তাদের লোম খাড়া হয়ে যায়। অথচ তারা তো প্রতিষ্ঠিত রাজাকার। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই শিবিরের গুপ্ত রাজনীতি আর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা সহ্য করব না। তাদেরকে অনতিবিলম্বে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসতে হবে, নাহলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুরাদমে নিষিদ্ধ করা হবে।’
শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেয়াল লিখনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। আমরা চাই এই দেয়াল লিখনের মাধ্যমে সকল ক্যাম্পাসে গুপ্ত রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সোচ্চার হয়ে গুপ্ত রাজনীতি নিপাত যাবে। এতে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমরা কোনো গুপ্ত রাজনীতি হতে দিবনা। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিরোধী ও বাংলাদেশ বিরোধী যারা মদদদাতা আছে তাদের এই দেশে ঠাই হবে না।’
এসময় শাখা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও হলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



