নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন ধাক্কা, বাড়ছে চালের দাম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৮ এএম
নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে এবার চালের দামও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজিতে চালের দাম বেড়েছে এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত। এতে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপে থাকা দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
গত দুই দিনে রাজধানীর মিরপুর-১, মিরপুর-১১, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর ও কারওয়ান বাজারের ছয়টি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি চালের দাম ১ থেকে দেড় টাকা বেড়েছে।
তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা মমতাজ বেগম প্রায় ৩০ জনের জন্য দুপুর ও রাতের খাবার সরবরাহ করেন। তার গ্রাহকদের বেশির ভাগই দিনমজুর, যারা বেশি পরিমাণে ভাত খান। প্রত্যেকের কাছ থেকে দুই বেলার খাবারের জন্য ১৫০ টাকা নেন তিনি।
মমতাজ বলেন, ‘কেজিতে এক থেকে দুই টাকা দাম বাড়াকে খুব বেশি মনে না হলেও আমাদের ভয় হচ্ছে, সামনে দাম আরও বাড়বে। এমনিতেই প্রতিদিনের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, খাবারের দাম বাড়ালে গ্রাহক হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। সাড়ে চার মাস আগে খাবারের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করেছিলেন।
নিত্যপণ্যের দাম, এলপিজি ও বিদ্যুতের বিল বাড়ায় মমতাজের আয় কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে ঋণ।
তিনি আরও বলেন, ‘চালের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে ব্যবসা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। কেজিতে এক টাকা দাম বাড়ায় মাসে আমার খরচই বেড়েছে ৩৬০ টাকা।’
মিরপুর-১১ বাজারের মকবুল রাইস এজেন্সির মালিক কামাল হোসেন বলেন, নাজিরশাইল ছাড়া সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে।
কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকার পর জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর প্রভাবে গত সপ্তাহে প্রতি কেজি চালের দাম ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা বেড়েছে, বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ সময়ে সাধারণত চালের দাম বাড়ে। গুদামে রাখা চাল পুরোনো হয়ে যায়, আর নতুন চাল বাজারে আসতে সময় লাগে। নতুন চাল বাজারে আসতে আরও অন্তত দুই মাস লাগবে।
কারওয়ান বাজারের জনতা রাইস এজেন্সির ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন দাম স্থিতিশীল থাকার পর পরিবহন খরচ বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়েছেন। তবে দেশের কোনো জেলায় চালের ঘাটতি নেই।
হাতিরপুলের বাসিন্দা বেসরকারি কুরিয়ার সেবার কর্মী জাহিদুর রহমানের (৫৫) পরিবারে ছয়জন সদস্য, চারজনই সন্তান। তিনি বলেন, তার আয় দিয়ে এখন আর পরিবারের খরচ চালানো যাচ্ছে না।
জাহিদুর বলেন, ‘বাজারে যে টাকা নিয়ে যাই, তা দিয়ে প্রয়োজনীয় সবকিছু কেনা যায় না। খরচ সামলাতে তালিকা থেকে কিছু পণ্য বাদ দিতে হয়, নয়তো পরিমাণ কমিয়ে কিনতে হয়।’
বাসার কাছে বাজার থাকলেও অন্তত ১০০ টাকা সাশ্রয়ের আশায় প্রায় এক হাজার ২০০ টাকার কেনাকাটা করতে তিনি কারওয়ান বাজারে যান। তার পরিবারের মাসে অন্তত ৬৫ কেজি চাল লাগে। ফলে কেজিতে এক টাকা দাম বাড়লেও মাসে খরচ বাড়ে ৬৫ টাকা।
স্টেশনারি ব্যবসায়ী মুসলিম উদ্দিন বলেন, প্যাকেটজাত ও তরল দুধের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধিও পরিবারের খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।



