জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব বাজারে
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও এলপি গ্যাসের পর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে নিত্যপণ্যের বাজারে। পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে এমন যুক্তিতে চাল, ডাল, ডিম, মাছ, তেল ও শাকসবজিসহ প্রায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর পর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে পণ্যমূল্যে বড় প্রভাব না পড়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন পণ্যের দাম ৩ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি মোটা স্বর্ণা চাল এখন ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে ছিল ৫৫ টাকা। মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। একই সময়ে আটা, ময়দা ও ভোজ্য তেলের দামও বেড়েছে।
সবজির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি। বেগুন, শসা, টমেটো, করলা ও পটোলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
প্রাণিজ আমিষের বাজারেও দাম বেড়েছে। খামারের প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাঙাশ ও তেলাপিয়াসহ তুলনামূলক কম দামের মাছের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পণ্য পরিবহণে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বগুড়া থেকে ঢাকায় সবজি নিয়ে আসা এক ব্যবসায়ীর ভাষ্য, আগে একটি ট্রাকের ভাড়া যেখানে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ছিল, এখন সেখানে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে। সেই ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এমন সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে যখন সাধারণ মানুষ আগে থেকেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং এর প্রভাব সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে পড়বে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে মুজেরী বলেন, আয় না বাড়লেও মানুষের ব্যয় বাড়ছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ আরও তীব্র হচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ বর্তমানে ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বাজারে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বৃদ্ধি না পায়।
এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাজার সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও বিস্তৃত হলে নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে মূল্যচাপ তৈরি হতে পারে।



