আন্তর্জাতিক বাজারে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চে স্বর্ণের দাম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার–সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ১১ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২৯ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে ৭ জুলাইয়ের পর এটিই সর্বোচ্চ অবস্থান। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৪ দশমিক ৫০ ডলারে ওঠে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। এর ফলে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। গত সপ্তাহে এ কারণেই জুনের শুরুর পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন হয়েছিল স্বর্ণের বাজারে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা আবার বাজারে ফিরছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাও স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতিতে সহায়তা করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনো ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী হলেও তেহরান আন্তরিক নয়। অন্যদিকে ইয়েমেনের হুথিদের হুমকির কারণে সৌদি আরব থেকে এশিয়াগামী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার লোহিত সাগরে পথ পরিবর্তন করেছে, যা জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বাকি সময় ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে চলতি বছর সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনাকে অধিকাংশ বিশ্লেষক ‘উচ্চ’ হিসেবে দেখছেন। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘ সময় উচ্চ সুদের হার বজায় থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়, যা বাজারে প্রভাব ফেলে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৯ দশমিক ৭১ ডলারে পৌঁছেছে, যা ১০ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৬৫৯ দশমিক ৯৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩১০ দশমিক ৫০ ডলারে উঠেছে।



