উৎপাদন সংকট ও বাড়তি চাহিদা
এশিয়াজুড়ে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী
যুগের চিন্তা ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
প্রতিকূল আবহাওয়া ও বাড়তি চাহিদার কারণে দামের এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ায় চালের রফতানি মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি জাপানেও এ প্রধান খাদ্যশস্যটির উৎপাদন কমবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।
বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারতে অনাবৃষ্টির কারণে নতুন মৌসুমের চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চলতি সপ্তাহে চালের রফতানি মূল্য কিছুটা বেড়েছে। বাজারে ভারতের ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল বিক্রি হয়েছে প্রতি টন ৩৪০-৩৪৫ ডলারে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৩৭-৩৪২ ডলার। অন্যদিকে দেশটির ৫ শতাংশ ভাঙা আতপ চালের দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি টন ৩৪৭-৩৫২ ডলারে। নয়াদিল্লির ব্যবসায়ীরা জানান, জুনে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি থাকায় ধান রোপণের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে ধীর ছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ২৫ জুন পর্যন্ত কৃষকরা ২৫ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ধান রোপণ করেছেন। এ পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের ৩৪ লাখ ৪০ হাজার হেক্টরের চেয়ে বেশ কম। তবে চলতি মাসে মৌসুমি বৃষ্টি বাড়ায় চাষাবাদের গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ভিয়েতনামেও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে চালের দাম। দেশটিতে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম প্রতি টন ৪৪৫-৪৫০ ডলারে উঠেছে, যা আগের সপ্তাহেও ৪১০-৪১৫ ডলার ছিল। হো চি মিন সিটির ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজারে চাল সরবরাহ কম। তবে থাইল্যান্ডের তুলনায় দাম কিছুটা সাশ্রয়ী হওয়ায় ভিয়েতনামের চালের চাহিদা বাজারে বেশ ভালো। পাশাপাশি দুর্যোগপূর্ণ মৌসুমের আগে ফিলিপাইন চালের আমদানি বাড়াতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামের চাল রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৫২ লাখ টনে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে ক্রেতার অভাবে থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম কমে প্রতি টন ৪৬৫ ডলারে নেমেছে, যা আগের সপ্তাহে ৪৮০-৫০০ ডলার ছিল। ব্যাংককের ব্যবসায়ীরা জানান, ফিলিপাইন নিজস্ব উৎপাদন পরিস্থিতি মূল্যায়নে সাময়িকভাবে কেনাকাটা কমিয়েছে। তবে এল নিনোর প্রভাবে বছরের শেষের দিকে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আঞ্চলিক এ পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি ব্যবসায়ীদের আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৭ হাজার টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে ১০-২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদন হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি গুদামে রেকর্ড পরিমাণ চালের মজুদ থাকা সত্ত্বেও টানা ছয় মাস ধরে দাম বাড়ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় লজিস্টিক সংস্থা বুলগ জানিয়েছে, জুনের শেষ নাগাদ তাদের চালের মজুদ দাঁড়িয়েছে ৫৪ লাখ টনে, যা গত বছরের শেষের তুলনায় ৬৬ শতাংশ বেশি। এ বিপুল মজুদের পরও জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত খুচরা পর্যায়ে চালের দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি পাইকারি ও মিল পর্যায়েও দাম ঊর্ধ্বমুখী। এল নিনো ও খরা থেকে ফসল বাঁচাতে ইন্দোনেশিয়া সরকার কৃষকদের আগাম ধান চাষের তাগিদ দিচ্ছে।
অন্যদিকে জাপানে ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে চাল উৎপাদন ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টনে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। মূলত বয়োবৃদ্ধ কৃষকদের অবসর নেয়া এবং গম ও বার্লির মতো বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকে পড়ায় দেশটিতে চাল উৎপাদন ও চাষের জমি কমছে। জাপানে চালের ব্যবহার বেশি হলেও জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং বয়োবৃদ্ধির কারণে ছয় দশকে খাদ্যতালিকায় চালের চাহিদা অনেকটাই কমে এসেছে।



