ফার্মাসিউটিক্যাল ও স্বাস্থ্যখাতে নতুন যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছে মীম শরৎ গ্রুপ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক শিল্পখাতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবার ফার্মাসিউটিক্যাল, নিউট্রাসিউটিক্যাল এবং স্বাস্থ্য-সম্পূরক পণ্য খাতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে মীম শরৎ গ্রুপ। খাদ্য ফোর্টিফিকেশন, পুষ্টিবিজ্ঞান, বায়ো-এনজাইম প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে অর্জিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ শিল্পসংশ্লিষ্ট নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বর্তমানে ২৮টি সহযোগী প্রতিষ্ঠান নিয়ে পরিচালিত মীম শরৎ গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ কৃষিভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফোর্টিফাইড আটা উৎপাদন, ফোর্টিফাইড রাইস কার্নেল ও মিক্সিং মিল, বিস্কুট শিল্প, সামুদ্রিক লজিস্টিকস, নির্মাণ ও আবাসন, রিয়েল এস্টেট, ফলের বাগান, লেমন গার্ডেন, চিংড়ি হ্যাচারি, আমদানি-রপ্তানি এবং বিভিন্ন উৎপাদনমুখী খাতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বিস্তৃত।
খাদ্য মূল্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘদিন কাজ করার ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকেজিং, লজিস্টিকস এবং ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপক সক্ষমতা গড়ে তুলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ফার্মাসিউটিক্যাল ও নিউট্রাসিউটিক্যাল শিল্পের মূল ভিত্তি হলো গবেষণা, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ উৎপাদন ব্যবস্থা এবং পুষ্টিবিজ্ঞানভিত্তিক পণ্য উন্নয়ন। এসব ক্ষেত্রে মীম শরৎ গ্রুপ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি দেশের খাদ্য ফোর্টিফিকেশন খাতে অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তাদের উৎপাদিত ফোর্টিফাইড আটা, ফোর্টিফাইড চাল এবং পুষ্টিসমৃদ্ধ বিস্কুট বিভিন্ন সরকারি পুষ্টি কর্মসূচি ও খাদ্য নিরাপত্তা উদ্যোগে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ব্যবহৃত ফোর্টিফাইড বিস্কুট শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখছে।
গ্রুপটির উৎপাদিত ফোর্টিফাইড আটায় আয়রন, জিঙ্ক, ফলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সংযোজন করা হয়, যা গর্ভবতী মা, শিশু এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
মীম শরৎ গ্রুপের গবেষণা ও উন্নয়ন ইউনিট বর্তমানে মানবস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, বায়ো-এনজাইম প্রযুক্তি, ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট, স্বাস্থ্য-সহায়ক উপাদান এবং গুণগত মান নিশ্চিতকরণ নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতে নিউট্রাসিউটিক্যাল, খাদ্য-সম্পূরক পণ্য, বিশেষায়িত পুষ্টিপণ্য এবং ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে গবেষণাভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে।
গ্রুপটির আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক খ্যাতিমান বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী অধ্যাপক এম. নাসির উদ্দিন, পিএইচডি, এফএএইচএ। তাঁর নেতৃত্ব ও পরামর্শে মীম শরৎ গ্রুপের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল হেলথ সামিট ২০২৬-এ অংশগ্রহণ করে মীম শরৎ গ্রুপ। স্বাস্থ্য, বায়োটেকনোলজি, পুষ্টি ও ফার্মাসিউটিক্যাল বিষয়ক আন্তর্জাতিক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখে প্রতিষ্ঠানটি। একই অনুষ্ঠানে গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ মো. সোহাগ ‘ফার্মাসিউটিক্যাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স’ ক্যাটাগরিতে গ্লোবাল হেলথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অর্জন করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি উন্নয়ন, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট দীর্ঘদিনের কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, খাদ্য ফোর্টিফিকেশন, পুষ্টিবিজ্ঞান, বায়ো-এনজাইম প্রযুক্তি, গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণে অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে মীম শরৎ গ্রুপকে ফার্মাসিউটিক্যাল ও স্বাস্থ্য-সম্পূরক শিল্পে একটি সম্ভাবনাময় অবস্থানে নিয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবন, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা দেশের স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।



