বাজেটের পরও স্বস্তিতে ব্রয়লার-সবজি, অপরিবর্তিত মাছ-ডিমের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ পিএম
নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পরও ব্রয়লার মুরগি, ডিম ও মাছের বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং ব্রয়লার ও সবজিতে স্বস্তি ফিরেছে, আর মাছের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি। গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি স্থিতিশীল রয়েছে এবং অধিকাংশ সবজি ৫০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজেটে ব্রয়লার, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি কোনো কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। ফলে ঈদের আগের তুলনায় দাম কিছুটা কমেছে, যা অন্যান্য বছর বাজেটের সময় দাম বাড়ার প্রবণতার বিপরীতে এবার ব্যতিক্রম হয়েছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৫০–১৬০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা এবং ডজনপ্রতি ডিম ১১০–১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের দামও আগের কাছাকাছি রয়েছে—পাঙাশ ১৮০–২০০, তেলাপিয়া ২০০–২৩০ (জীবিত-মৃত ভেদে), রুই ২৬০–৩৫০, মৃগেল ২৫০–৩০০, দেশি টেংরা ৬০০, বেলে ৩৫০, বাইম ৬০০–৮০০, পাবদা ৩৫০, কই ৪০০–৫০০, শিং ৪০০, পোয়া ২৬০, শোল ৭০০ ও টাকি ৪০০ টাকা কেজি। তবে চিংড়ির দাম বেশি—আকার ও জাতভেদে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি।
কাঁচাবাজারে সবজিতে ভরপুর। বড় লেবু হালি ২০ টাকা, ছোট লেবু ১০ টাকায় মিলছে। গোল ও লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা কেজি। পটল, কাঁকরোল, বরবটি, লতি, ধুন্দুল—এসব মৌসুমি সবজি ৫০–৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। করলা ৭০, বরবটি ৬০, মুলা ৫০, লতি ৬০, ধুন্দুল ৫০, পেঁপে ৪০–৫০, গাজর ১০০–১২০, কচুরমুখী ৫০, কাঁকরোল ৬০–৭০ টাকা। লাউ পিস ৫০–৬০, আলু ২৫ টাকা কেজি, ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি।
পবিত্র ঈদুল আজহার পর গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত—৮০০ টাকা কেজি।
রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, আজ ১৬০ টাকায় ব্রয়লার ও ৩২০ টাকায় সোনালি বিক্রি করছি। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়ার ভাষ্য, ঈদের পর মাছের দাম কিছুটা কমেছে এবং বাজেটের কোনো প্রভাব পড়েনি; বরং ২০–৩০ টাকা ওঠানামা স্বাভাবিক। রিকশাচালক ইদ্রিস মিয়া উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ সবজি ৫০–৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে, গাজর ছাড়া যা ১০০–১২০ টাকা। তাঁর মতে, সবকিছুর দাম এখন সহনীয় পর্যায়ে।



