বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ চুরি মামলায় অভিযুক্ত ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
দেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্তে দীর্ঘ এক দশক পর গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। মামলার খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার তদন্ত ডকেট ও খসড়া চার্জশিটে দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এতে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক তদন্ত সহযোগিতা এবং বিভিন্ন দেশের আইনগত সহায়তার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থায় ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে সংঘটিত এই সাইবার জালিয়াতি বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার ৩৯ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং শুরু থেকেই তদন্তের দায়িত্ব পালন করে আসছে সিআইডি।
খসড়া অভিযোগপত্রে ফিলিপাইনের ৩৬, বাংলাদেশের ১০, শ্রীলঙ্কার ৮, ভারতের ৪, চীনের ৩, উত্তর কোরিয়ার ২ এবং জাপানের ১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তদন্তের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রায় শতভাগ তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের ভিত্তিতেই খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের আইনি পরামর্শ পাওয়ার পর মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতার ভিত্তিতে উত্তর কোরীয় হ্যাকার পার্ক জিন হিয়ক এবং তার নেতৃত্বাধীন ‘লাজারাস গ্রুপ’-এর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এফবিআইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সিআইডি জানায়, তদন্তের সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির (এমএলএআর) আওতায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবানবন্দি ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, মামলার শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে ঘটনার ৪১ দিন পর মামলা হওয়ায় তদন্তকারীরা মূল ক্রাইম সিনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবেশের সুযোগ পাননি। তবে পরবর্তীতে দেশ-বিদেশ থেকে সংগৃহীত তথ্য, ডিজিটাল আলামত এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হয়েছে।
সিআইডির দাবি, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের ভূমিকা, দায়-দায়িত্ব এবং অর্থপাচারের পথ চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাইবার আর্থিক জালিয়াতি মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।



