ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির প্রাক—বাজেট ছায়া সংসদ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
প্রাক বাজেট ছায়া সংসদে বিজয়ী দলের বিতার্কিকদের ট্রফি হাতে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সাথে দেখা যাচ্ছে।
• সরকার টাকা ছাপাচ্ছে এটি গালগল্প
• বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে
• আওয়ামী লীগ আমলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল লুটপাট
সরকার টাকা ছাপাচ্ছে বলে যে প্রচার হচ্ছে তা গালগল্প, এর সাথে বাস্তবতার মিল নাই। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিগত সময়ে ঘরে, ব্যবসায় এবং সরকারে আয়ের টান পড়েছিল। সেই টান এতটাই ব্যাপক ছিল যে নিম্ন—মধ্যবিত্ত অনেকেই দারিদ্রসীমার নিচে চলে গিয়েছে, যা খুবই মমার্ন্তিক। এর ফলে নিম্ন—মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তসহ সমাজে ভাঙন ধরেছে। সে সময় ব্যবসায়ি ব্যবসা করতে গিয়ে পুঁজি পায়নি। পতিত সরকার প্রতি মুহুর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করতো। বিদ্যুত ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিলো। বর্তমান সরকার এইরকম কোন সিন্ডিকেটের কাছে কোন খাতকেই ইজারা দিতে চায় না, বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়। বিগত সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ ঋণ করে লুটপাট করেছে। অতীতে ধমকা—ধমকির মাধ্যমে তথ্য জালিয়াতি করে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। বর্তমান সরকার পরিসংখ্যান ব্যুরোর সকল তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে। আজ শনিবার এফডিসি’তে আসন্ন বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রাক—বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার উত্তরাধিকার সুত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিকে আরো চাপে ফেলেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যদ্রব্যের দাম বাড়া ছাড়াও আমদানি খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচ বেড়েছে। উৎপাদন খরচ বাড়ায় দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে সীমিত ও নিম্ন—মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবারের বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া এবারের বাজেটে সরকারকে জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য, রপ্তানী ও সামাজিক সুরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন খাতে ভতুর্কির ওপর নজর দিতে হচ্ছে। তবে বাজেট যাতে জনভোগান্তি না বাড়ায়, নিম্ন—মধ্যবিত্তের ওপর চাপ তৈরি না করে, ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ বজায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবারের বাজেটে অন্তর্ভূক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামলাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পথে হাঁটছে বর্তমান সরকার। সুবিধাভোগী নির্বাচন ও এর অর্থায়ন নিয়ে কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করলেও, সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলে এই ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড সঠিকভাবে সঠিক মানুষের কাছে পৌছানো গেলে এটি অবশ্যই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করবে। এতে ঋণের বোঝা বাড়ার কোন শঙ্কা নেই।
‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক—বাজেট ছায়া সংসদে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) এর বিতার্কিকরা বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক তৌহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক সাইদুল ইসলাম ও সাংবাদিক গোলাম কাদির রবু। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।



