ফাইল ফটো
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বৃষ্টি ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে মাংস, মাছ ও সবজির দাম বেড়েছে। এতে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি বেড়েছে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের।
শুক্রবার দক্ষিণ মুগদা এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে বেশিরভাগ বিক্রেতাই ৮০০ টাকার নিচে বিক্রি করছেন না। গরিবের প্রোটিন হিসেবে পরিচিত ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়ে কেজিতে ২০০ টাকা হয়েছে, আর সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ টাকায়।
মুগদা ছোট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হানিফ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে মাংসের দাম কমার সম্ভাবনা নেই। সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় গরুর দামও এখন থেকেই বেশি নির্ধারণ করা হচ্ছে।
ক্রেতাদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা গেছে। খাদিজা নামের এক ক্রেতা বলেন, কয়েকদিন আগেও ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকায় কিনেছি, এখন ২০০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়লে গরিব মানুষ চলবে কীভাবে?
মাছের বাজারেও দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজিতে। এছাড়া ইলিশ (প্রায় আধা কেজি ওজনের) ১,৫০০ থেকে ১,৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০, পাবদা ৩৮০, রুই ৩২০ থেকে ৩৬০, কাতল ৪০০, টেংরা ৮৫০ এবং গলদা চিংড়ি ১,০০০ থেকে ১,২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। অধিকাংশ সবজির দাম ৬০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আলু ২০-২৫ টাকা হলেও টমেটো ৬০, করলা ৬০-৬৫, পটল ৬০, পেঁপে ৭০, গাজর ৮০, ঢেঁড়স ৬০, শসা ১০০-১১০, বরবটি ৮০, কাঁকরোল ১২০ এবং বেগুন ৮০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। সবজি বিক্রেতা হামিদ জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে অনেক সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে, ফলে আগের মতো সরবরাহ ঢাকায় আসছে না। এজন্য দাম বাড়ছে।



