কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম
ধনীদের ওপর কর ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। প্রচলিত সারচার্জের পরিবর্তে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দলিলমূল্যের পরিবর্তে জমির বাজারমূল্য (মৌজা মূল্য) ভিত্তিতে কর নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, বারিধারা ও চট্টগ্রামের খুলশী-আগ্রাবাদসহ অভিজাত এলাকায় বসবাসকারী উচ্চসম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, নতুন কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা আসবে এবং বৈষম্য কমবে। এ লক্ষ্যে ‘সম্পদ কর আইন’ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
বর্তমানে ৪ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে সারচার্জ দিতে হয়। তবে নতুন নিয়মে সম্পদের সীমা একই থাকলেও কর গণনার পদ্ধতি বদলাবে। যেমন— ৪ থেকে ১০ কোটি টাকার মধ্যে সম্পদ থাকলে সম্পদমূল্যের শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কর দিতে হবে। ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার মধ্যে এক শতাংশ, ২০ থেকে ৫০ কোটি টাকার মধ্যে এক দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি হলে দুই শতাংশ কর দিতে হবে। তবে সম্পদ কর কোনোভাবেই প্রদেয় আয়করের চেয়ে বেশি হবে না।
এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, উন্নত বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই সম্পদ কর প্রচলিত। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জাপান, স্পেন ও সুইজারল্যান্ডে জিডিপির ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব আসে সম্পদ কর থেকে। বাংলাদেশে সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ মনে করেন, আয় ও সম্পদ বেশি হলে করের বোঝাও বেশি হওয়া উচিত। সম্পদ কর আরোপ রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সম্পদের মূল্যায়ন যেন সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।



