বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত ১০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০০৬। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একটি অধ্যাদেশকে সংশোধন করে এই আইন পাস হয়।
আইনটির ১৮ (ক) ধারার অধীনে, যেসব ব্যাংক একীভূত বা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় রয়েছে, সেগুলোর পুরোনো মালিক বা পরিচালকগণ যাদের বিরুদ্ধে অর্থ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে, তারাই আবার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আবেদন করতে পারবেন।
সেই থেকে শুরু। এরপর আবার ইসলামী ব্যাংকের এমডি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক খানকে দেড় মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। এতে করে ইসলামী ব্যাংকে বহুল বিতর্কিত এস আলমরা আবার মালিকানায় ফিরে আসার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এস আলমের অপচ্ছায়ার পুনরাগমনের আশঙ্কায় ব্যাংকের গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অস্থির হয়ে উঠেছে। বিরোধী রাজনীতি এবং সুশীল সমাজও তাতে যোগ দিয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের এমডি মো. ওমর ফারুক খানের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অতিরিক্ত এমডি আলতাফ হোসেন। এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে ব্যাংকটিতে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। পর্ষদ সভা থেকে এ ছুটির আবেদন মঞ্জুর করা হলেও তা তিনি ব্যক্তিগতভাবেই চেয়েছিলেন নাকি বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশ মনে করছে, একটি চক্র আবারও ব্যাংক দখলের ষড়যন্ত্র করছে।
এ নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। গতকাল সোমবার দলটির আমির শফিকুর রহমান রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সেমিনারে বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংককে আবার কুক্ষিগত করার চেষ্টা চলছে। সাবধান করে দিচ্ছি, এটাকে দলীয়করণ করবেন না, যদি দলীয়করণ করেন ব্যাংকগুলোকে একটার পর একটা, জনগণ আপনাদেরকে ছেড়ে কথা বলবে না।’
গতকাল দুর্নীতিবিরোধী বৈশ্বিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও এক বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের জন্য দায়ী পুরোনো শেয়ারধারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিবৃতিতে তিনি ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আবেদনপত্র কি স্বেচ্ছাকৃত না চাপিয়ে দেওয়া? : গত রবিবার বিকালে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এমডি ওমর ফারুকের ছুটির আবেদন মঞ্জুর করা হয়। তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ১৫ দিনের ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু পর্ষদ তাকে ৩১ মে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায়। গতকাল সোমবার থেকে তার ছুটি কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার ভিত্তিতেই তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সাধারণত কোনো ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন চেয়ে থাকে।
ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে জামায়াতপন্থী পরিচালক ও কর্মকর্তার প্রভাব ছিল প্রবল। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদেও জামায়াতপন্থীরা ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ পদে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করে। সম্প্রতি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর জামায়াতপন্থী পরিচালক আব্দুল জলিলকে সরিয়ে সেখানে এসএম আব্দুল হামিদকে বসানো হয়।
ইসলামী ব্যাংক মূলত মুসলিম দেশগুলোর বিনিয়োগ ও জামায়াতপন্থী পরিচালকদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতো। ২০১৭ সালে ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় এ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। মালিকানা পরিবর্তনের পর ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। নতুন মালিকানার অধীনে পরিচালিত ব্যাংকটি ঘিরে তখন থেকে অর্থ পাচার, লুটপাট ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
আবারও ব্যাংক দখলের চেষ্টার অভিযোগ : ব্যাংকটির সেবাগ্রহীতাদের সংগঠন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম গত রবিবার মানববন্ধন করে অভিযোগ করেছে, এস আলম গ্রুপের ছায়ায় একটি চক্র সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ব্যবহার করে ব্যাংক দখলের চেষ্টা করছে। তারা ব্যাংক ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বন্ধের দাবি জানিয়েছে। গ্রাহকরা মনে করছেন, নেতৃত্বে বারবার পরিবর্তন ঘটলে তাদের আমানত ও লেনদেন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
২০২৫ সালের মে মাসে সাবেক এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা অনিয়মের অভিযোগে অপসারিত হন। এরপর ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে ওমর ফারুক খান এমডি হন। তিনি ১৯৮৬ সালে ইসলামী ব্যাংকে ব্যাংকিং জীবন শুরু করেছিলেন। তার নেতৃত্বে ব্যাংক কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পেলেও মালিকানা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অস্থিরতা কাটেনি।
পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠনের পর পুরোনো কর্মকর্তারা পদোন্নতির দাবিতে চাপ সৃষ্টি করেন। প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তাকে একসঙ্গে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যা ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট করেছে। রাজনৈতিক প্রভাব, মালিকানা পরিবর্তন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ব্যাংকটিকে অস্থিতিশীল করেছে। ব্যাংকের কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকলেও অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকগুলোতে শরিয়াহ বোর্ড স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবমুক্ত না হওয়ায় স্বচ্ছতা নষ্ট হচ্ছে। শক্তিশালী তদারকি না থাকায় অনিয়ম ও অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্যাংকটির নেতৃত্ব সংকট দ্রুত সমাধান না হলে আর্থিক খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমান চালচিত্র : শেয়ারবাজারে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর গতকাল সোমবার স্থিতিশীল ছিল। ওইদিন ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন শেষ হয়েছে ৩৮ টাকা ৩০ পয়সায়, যা আগের দিনের সমান। দামের এই স্থবিরতায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কোন দিকে যাচ্ছে এই ব্যাংকটির বাজার অবস্থান?
গতকাল দিনভর লেনদেনে শেয়ারটির দাম ওঠানামা করেছে ৩৮ থেকে ৩৮.৮০ টাকার মধ্যে। মোট ৪৯৫টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৮৩ কোটি টাকা। বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার বেশি। তবে দাম অপরিবর্তিত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে।
গত এক বছরে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের সর্বনিম্ন দাম ছিল ৩২.৬০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫৬.২০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমান দামটি নিম্নমুখী সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকটির আর্থিক ফলাফল ও বাজার পরিস্থিতি মিলিয়ে শেয়ারের দাম এখন অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল পর্যায়ে রয়েছে।
ব্যাংকটির ২০২৫ সালের অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ০.৬২ টাকা। তবে ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি আয় নেমে এসেছে মাত্র ০.৬৮ টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৩ সালে ইপিএস ছিল ৩.৯৫ টাকা। অর্থাৎ আয়ে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
লাভের দিক থেকেও মিলছে একই চিত্র। ২০২৪ সালে ব্যাংকটির মোট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১,০৮৭ কোটি টাকায়, যেখানে ২০২৩ সালে ছিল ৬,৩৫৩ কোটি টাকা। মুনাফার এই পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর তথ্যনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডিং কাঠামোতে দেখা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের দখল আছে ৭৫ শতাংশের বেশি। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ শেয়ার। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশীদারত্ব মাত্র ৬.৮৫ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য শেয়ারের দামে স্থিতিশীলতা আনলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সুযোগ সীমিত করে দিয়েছে।
২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৯২ হাজার কোটি টাকা। স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেই বললেই চলে। ঋণের এই ভারী চাপ ভবিষ্যতে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকটির প্রাইস-আর্নিংস (পিই) রেশিও দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ গুণ, যা তুলনামূলকভাবে বেশি। অর্থাৎ বর্তমান আয়ের তুলনায় শেয়ারের দাম কিছুটা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে পিই রেশিও ছিল ৭১ গুণের বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, আয় কমলেও শেয়ারের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত।
বিনিয়োগকারীরা বলছেন, আয়ের পতন ও ঋণের চাপের কারণে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শক্ত অবস্থান বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে। অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন নতুন কোনো ইতিবাচক আর্থিক ফলাফলের জন্য।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইবিবিএল) খেলাপি ঋণ এ বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের ঋণ কেলেঙ্কারি, অনিয়ম ও এস আলম গ্রুপের জালিয়াতি একসময়কার সবচেয়ে লাভজনক এই ব্যাংককে গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে।
সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকের মোট ঋণ ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ ব্যাংকের মোট ঋণের অর্ধেকেরও বেশি এখন অনাদায়ী, যা নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) হিসেবেই ধরা হচ্ছে। মাত্র এক বছরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮৮ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ছিল ১৭ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা (মোট ঋণের ১১ শতাংশ)।
ব্যাংকটি এখন ৮৫ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকার প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) ঘাটতিতে আছে।
যা বলছে জামায়াতে ইসলামী : গতকাল সোমবার ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রসঙ্গত, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর কারণে সরকারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবকিছু কুক্ষিগত করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে অভ্যুত্থান করার পরে এখন দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে। এই অপসংস্কৃতি চলতে থাকলে জামায়াত বসে বসে আঙুল চুষবে না।’ জামায়াত আমির বলেন, ‘যে ব্যাংক দেশের রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ আহরণ করে, তাদের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে। ব্যাংকটিকে দলীয়করণ করবেন না।’
যা বলছে টিআইবি : টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’-এ একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারধারীদের কোনো ধরনের জবাবদিহি ছাড়াই মালিকানায় ফেরার সুযোগ রাখা আত্মঘাতী। এর মাধ্যমে সরকার চিহ্নিত লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতকে পুনরায় দুর্নীতি ও লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত করবে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংকটে নিমজ্জিত ব্যাংকগুলোর আগের মালিকেরা, যারা ছিলেন এ খাতের লুটপাটের পাইওনিয়ার বা অগ্রগামী, তারা এখন কোন জাদুবলে এমন শুদ্ধতা অর্জন করলেন যে একই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ইত্যাদি পুনরায় করায়ত্তের জন্য সরকার নির্ধারিত অর্থের মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ জমা দেবেন? বাকি ৯২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থ ২ বছরে মাত্র ১০ শতাংশ সুদসহ শোধ করবেন? নতুন মূলধন জোগান দেবেন, বিদ্যমান মূলধন ঘাটতি পূরণ করবেন, আগের সব আমানতকারী ও পাওনাদারের দায় শোধ করবেন, সরকারের কর ও রাজস্ব পরিশোধ করবেন, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ দেবেন? এমনকি সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুনের কমপ্লায়েন্স কাঠামো পুনর্গঠন করবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর কি সরকারের কাছে আছে?’
তা ছাড়া কোন মানদণ্ডে পুনর্দখলের বিনিময়মূল্য নির্ধারিত হবে সেই প্রশ্নও তোলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের জন্য দায়ী পুরোনো শেয়ারধারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হলে এ খাতে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসবে না।’



