Logo
Logo
×

অর্থনীতি

৬১৭ কোটি টাকার লেনদেনে শেষ হলো ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫২ এএম

৬১৭ কোটি টাকার লেনদেনে শেষ হলো ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

বাণিজ্যিক সাফল্য ও রপ্তানির সম্ভাবনার ইতিবাচক বার্তা দিয়ে শেষ হয়েছে পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী আয়োজিত ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৬। ১ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এ মেলায় মোট লেনদেন হয়েছে ৬১৭ কোটি টাকা।

এর মধ্যে দেশীয় ক্রেতারা পণ্য ও সেবা কিনেছেন ৩৯৩ কোটি টাকার। বাকি অংশ এসেছে বিদেশি ক্রেতাদের দেওয়া রপ্তানি আদেশ থেকে, যার পরিমাণ ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৪ কোটি টাকা।

শনিবার মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ।

আয়োজকদের তথ্যমতে, এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সমাপনী দিনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। নির্মাণ ও স্থাপত্য সৌন্দর্য, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, পণ্য প্রদর্শন, দর্শক ও ক্রেতা সেবা, পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি, ডিজিটাল কনটেন্ট, রপ্তানি অবদান ও উদ্ভাবনসহ নানা সূচক বিবেচনায় এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য রপ্তানি আদেশ পেয়েছে, যা এবারের মেলার অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এসব অর্ডার আসে। বিশেষ করে পাট ও পাটজাত পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, হাইজিন পণ্য, কসমেটিকস, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, হোম টেক্সটাইল ও নকশিকাঁথায় বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ ছিল বেশি।

দেশীয় বাজারেও বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। গত বছরের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে রেস্তোরাঁ ও খাদ্য স্টলগুলোর বিক্রি ছিল চোখে পড়ার মতো। উদ্যোক্তারা জানান, পুরো মাসজুড়েই দর্শনার্থীর উপস্থিতি ভালো ছিল এবং পোশাক, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিকস ও গৃহসজ্জা পণ্যের চাহিদা বেশি দেখা গেছে।

মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পের নানা পণ্য একসঙ্গে প্রদর্শিত হয়। পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত সামগ্রী, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, কসমেটিকস, হস্তশিল্প, প্লাস্টিক ও মেলামাইন, হারবাল পণ্য, ইমিটেশন জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেটসহ বিভিন্ন সেবা ও ফাস্টফুড স্টল দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

নতুন ও উদ্ভাবনী পণ্যের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। কারা অধিদপ্তর বাঁশের তৈরি প্রায় ৪০০ ধরনের পণ্য প্রদর্শন করে। জয়িতা ফাউন্ডেশন পাটপণ্য ও অর্গানিক পণ্য নিয়ে আসে। বিসিক ভেজিটেবল ডাইংয়ের পোশাক, তাঁত বোর্ড ঢাকাই মসলিন, জেডিপিসি পাটের ট্যাপেস্ট্রি, অ্যাপেক্স দীর্ঘস্থায়ী রেডি-টু-ইট খাবার এবং টি-বোর্ড রোজেলা ও ব্লু টি প্রদর্শন করে দর্শনার্থীদের আগ্রহ কাড়ে।

রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের লক্ষ্য সামনে রেখে এবারের মেলায় আটটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুপার্ক, সিনিয়র সিটিজেন কর্নার, মা ও শিশুসেবাকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থাও ছিল।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন