বিশ্ববাজারে সোনার দামে নতুন রেকর্ড, আউন্সপ্রতি প্রায় ৫৬০০ ডলারের কাছাকাছি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
বিশ্ববাজারে সোনার দামের ঊর্ধ্বগতি থামছেই না। একের পর এক রেকর্ড গড়তে গড়তে বৃহস্পতিবার সোনার দাম নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকছেন সোনার দিকে। এর ফলে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। একই সময়ে রুপার দামও প্রায় ১২০ ডলারের সীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, স্পট গোল্ডের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৩৮ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে দাম বেড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯১ দশমিক ৬১ ডলারেও উঠেছিল।
বাজার বিশ্লেষক ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ম্যারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেইর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক কাঠামো ভেঙে আঞ্চলিক ব্লকে বিভক্ত হওয়ার প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। এই অনিশ্চয়তাই সোনার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সোমবার প্রথমবারের মতো সোনার দাম ৫ হাজার ডলারের সীমা অতিক্রম করে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত সোনার দাম ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর পেছনে শক্তিশালী নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক সোনা কেনা এবং দুর্বল মার্কিন ডলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ওসিবিসি বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, সোনা এখন আর শুধু সংকটকালীন বা মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার মাধ্যম নয়; বরং এটি একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য মূল্য সংরক্ষণকারী সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে সোনার দাম ৬৪ শতাংশ বেড়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছর এখন পর্যন্ত দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি।
আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর সতর্ক করে বলেন, দামের ঊর্ধ্বগতি প্রায় প্যারাবলিক আকার নেওয়ায় শিগগিরই একটি সংশোধন বা দরপতন হতে পারে। তবে তাঁর মতে, মৌলিক দিক থেকে ২০২৬ সালজুড়েই সোনার বাজার শক্ত অবস্থানে থাকবে, ফলে দরপতন হলে সেটি কেনার সুযোগ হতে পারে।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনাও সোনার দামে প্রভাব ফেলছে। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি দেন। এর জবাবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়।
এদিকে, ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাজারে বড় ধরনের চমক না এলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, মূল্যস্ফীতি এখনো লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে।
বৃহস্পতিবার সোনার দামে আরও সমর্থন এসেছে একটি ক্রিপ্টো গ্রুপের ঘোষণায়। তারা তাদের বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ভৌত সোনায় বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সাংহাই ও হংকংয়ের সোনার বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, দাম আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, স্পট সিলভার ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১১৭ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। এর আগে রুপার দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ১১৯ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছিল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৬০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
এ ছাড়া স্পট প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৪৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৪৭ ডলারে নেমে এসেছে।



