ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের ধাক্কা
মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১০.৭৭ শতাংশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা পাল্টা শুল্কের অতিরিক্ত চাপ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় তৈরি পোশাকের ব্র্যান্ড ক্রেতারা আমদানি কমিয়েছেন ১৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ প্রায় সব প্রধান রপ্তানিকারক দেশের ওপর। বিশেষ করে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাণিজ্য বিশ্লেষক ও রপ্তানিকারকদের মতে, এই পতন মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্কনীতিরই বাস্তব প্রতিফলন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক সরবরাহকারী শীর্ষ দেশগুলোর আমদানিতেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীন থেকে কমেছে ৫৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ ছাড়া ভারত থেকে ২৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১৩ দশমিক ২৭ শতাংশ, মেক্সিকো থেকে ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ কম পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উচ্চ শুল্কের প্রভাবে মার্কিন ব্র্যান্ড ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পোশাকের দামের ওপরও। এ সময়ে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের ইউনিটপ্রতি দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং চীনের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। একই সঙ্গে কম্বোডিয়ার পোশাকের দাম কমেছে ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে ভারতের পোশাকের ইউনিটপ্রতি দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
ওটেক্সার তথ্য বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের চূড়ান্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার প্রভাবে শুধু অক্টোবর মাসেই যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৬৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশের বেশি কম। একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানিও ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।
তবে সামগ্রিক হিসাবে ভিন্ন একটি চিত্র দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও বাংলাদেশ থেকে আমদানি বেড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আগের বছর একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ শতাংশের বেশি।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, এই প্রবৃদ্ধি পুরো বছরের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে না। তাঁর মতে, ট্রাম্পের শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই বড় লটে পোশাক আমদানি হওয়ায় জানুয়ারি-অক্টোবরের হিসাবে প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আগস্টের পর থেকে রপ্তানির গতি স্পষ্টভাবে কমছে এবং মাসে মাসে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।



