ইশতেহারে সিন্ডিকেটমুক্ত বাজারের প্রতিশ্রুতি চাইছে ভোক্তারা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জোরালো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। বিশেষ করে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার দেখতে চায়। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোও।
দীর্ঘদিন ধরেই শক্তিশালী বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চড়া দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেঁয়াজ, ডিম, ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে গ্যাস পর্যন্ত প্রায় সব নিত্যপণ্যে কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। সরকারি নজরদারি থাকলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কাছে কর্তা ব্যক্তিদের অসহায়ত্ব নতুন কিছু নয়।
এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন সামনে রেখে সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ব্যবস্থার দাবি আরও জোরালোভাবে উঠে আসছে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)সহ বিভিন্ন সংগঠন।
ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই সিন্ডিকেটের কারসাজির ফল। তার মতে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলো কী পদক্ষেপ নেবে, তা নির্বাচনের আগেই জনগণের জানা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকেও আশ্বাস আসতে শুরু করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, তারা মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা ও সুযোগ নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দেবে। দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা অনেক সময় বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সিন্ডিকেটমুক্ত ও স্বাধীন ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যা তাদের ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে।
জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ জনগণের স্বস্তিদায়ক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলো নীতিগতভাবে ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এদিকে বিএনপিও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, রাষ্ট্র মেরামতের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড ও হেড কার্ডের মতো উদ্যোগের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
তবে শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন ক্যাব সভাপতি। তার ভাষায়, সরকার গঠনের পর যদি কোনো দল নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় এবং আবারও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তাহলে তারা দ্রুতই জনসমর্থন হারাবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরপরই শুরু হবে পবিত্র রমজান। নতুন সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে বাজারে স্বস্তি ফেরাতে পারবে কি না, সেদিকেই এখন সাধারণ মানুষের তাকিয়ে থাকা।



