ইসলামী ব্যাংকিং সুশাসনের ঘাটতিতে লুটপাটের শিকার: গভর্নর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাধারণ ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ইসলামী ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের সন্তোষজনক মুনাফা দিতে সক্ষম হলেও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিপুল অর্থ লুটপাটের সুযোগ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থায়ন ও ব্যাংকিং সম্মেলন’-এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নীতিগতভাবে ইসলামী ব্যাংকিং সবচেয়ে নিরাপদ ঋণ ব্যবস্থা হলেও বাংলাদেশে এর সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। কিছু গোষ্ঠীর দখলদারির কারণে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার ফলে গ্রাহক ও আমানতকারীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ দায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা ও শরীয়াহ বোর্ডের পাশাপাশি আমানতকারীদেরও রয়েছে।
গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংকিং কেবল ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। দেশের ব্যাংকিং খাতের এক চতুর্থাংশের বেশি শেয়ার ইসলামী ব্যাংকগুলোর হাতে। মানুষের সচেতন পছন্দের ফলেই এ খাত বিস্তৃত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। তবে বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত থাকায় তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এজন্য শরীয়াহভিত্তিক বন্ড বা সুকুক বাজার গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকিংয়ের অধীনে দেশের বিপুল আর্থিক সম্পদ থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব বেড়েছে। এ সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং আমানতকারীরা ভালো রিটার্ন পাচ্ছেন—এটি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দায়িত্ব।
গভর্নর জানান, ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে সম্প্রতি পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে এবং দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অন্তত দুটি বড় ও শক্তিশালী ইসলামী ব্যাংক গড়ে উঠবে, যারা সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমানতকারীদের ভালো রিটার্ন দেবে।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, জনগণের আস্থা ইসলামী ব্যাংকগুলোর প্রতি হারায়নি। গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি আমানত এসেছে এ খাতে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া সহায়তার অর্থও ফেরত দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ।
ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন ইসলামী ব্যাংকিং আইন প্রণয়নের কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, শরীয়াহ বোর্ডকে আরও শক্তিশালী ও সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। চাকরির ভয় করলে চলবে না।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো আর্থিক লুটতন্ত্র ফেরত আসতে দেওয়া হবে না।” এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি একাডেমিশিয়ানসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকিং খাতকে উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও শক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।



