Logo
Logo
×

অর্থনীতি

শীতের প্রভাবে বাজারে মিশ্র চিত্র: মাছের দামে চাপ, ডিম ও মুরগিতে কিছুটা স্বস্তি

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১০ পিএম

শীতের প্রভাবে বাজারে মিশ্র চিত্র: মাছের দামে চাপ, ডিম ও মুরগিতে কিছুটা স্বস্তি

দেশজুড়ে তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারেও। নতুন বছরের শুরুতে মাছের বাজার চড়া থাকলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ নেই, আর ডিম ও মুরগির দাম কমলেও তা এখনো পুরোপুরি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা এক মাস আগে ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি ছিল। এ ছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকায় এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায়।

বিক্রেতারা জানান, শীতের কারণে খামারিরা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত মুরগি বাজারে ছাড়ছেন, ফলে সরবরাহ বেড়েছে। নতুন বাজারের বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতে খামার থেকে দ্রুত মুরগি চলে আসে, আবার চাহিদাও কিছুটা কম থাকে। তাই দাম কিছুটা কম রাখা যায়।

অন্যদিকে সবজির দামে কিছুটা ওঠানামা থাকলেও মাছের বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না। বর্তমানে প্রতি কেজি কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

চিংড়ির বাজারেও দাম চড়া। বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং দুই কেজির ইলিশ ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শীতে নদীতে মাছ কম ধরা পড়ে। আড়তে দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও দাম বাড়তি থাকে।

রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। গত সপ্তাহে যে রুই ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ সেটি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি আছে।

বনশ্রী বাজারের ক্রেতা সেলিম রেজা বলেন, মাছের দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। মুরগির দাম যদি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকত, তাহলে আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জন্য সুবিধা হতো।

সব মিলিয়ে শীতের বাজারে রাজধানীর ক্রেতারা পাচ্ছেন মিশ্র অভিজ্ঞতা—ডিম ও মুরগিতে স্বস্তির হাওয়া থাকলেও মাছের দামে এখনো শীত কাটেনি।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন