পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে কর্শাকড়িয়াইলে আনিছের নির্বাচনী শোডাউন
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১০ নম্বর কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে সরব হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন। চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে চলছে নানা তৎপরতা। এরই ধারাবাহিকতায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আনিছুজ্জামান আনিছের সমর্থনে পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে কর্শাকড়িয়াইল আলহাজ্ব ওয়াজেদুল ইসলাম খান উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এতে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে শোভাযাত্রাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
শোভাযাত্রাটি কড়িয়াইল বানিয়া বাজারসহ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে পুনরায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। বিশাল মোটরসাইকেল বহর ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরাও শোভাযাত্রাটি উপভোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে আনিছুজ্জামান আনিছও রয়েছেন আলোচনায়। তিনি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবং বর্তমান ইউপি সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান তিনি।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোকাদ্দেস ভূইয়া, কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ উদ্দিন ভূইয়া ও রবিউল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি সেলিম মেম্বার, ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম এবং ছাত্রদল নেতা ইমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
শোভাযাত্রা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে। আজকের শোভাযাত্রায় অনেক মানুষ অংশ নিয়েছেন। আমরা এমন একজন চেয়ারম্যান চাই, যিনি এলাকার মানুষের পাশে থাকবেন এবং ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে কাজ করবেন।’
কৃষক রহিম মিয়া বলেন, ‘আমরা কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, কৃষির সুযোগ-সুবিধা ও সাধারণ মানুষের নানা সমস্যা নিয়ে একজন চেয়ারম্যানকে কাজ করতে হয়। যিনি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন এবং কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের কথা শুনবেন, আমরা এমন প্রার্থীই চাই।’
দিনমজুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের জন্য চেয়ারম্যানের দরজা যেন সবসময় খোলা থাকে। এলাকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও কর্মসংস্থানসহ সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে যিনি আন্তরিকভাবে কাজ করবেন, ভোটের সময় আমরা তাঁকেই গুরুত্ব দেব।’
কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী তিন-চারজন থাকলেও আনিছুজ্জামান আনিছ একজন তরুণ ও ত্যাগী নেতৃত্ব। তিনি দীর্ঘদিন দলের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আনিছের ত্যাগ ও সাংগঠনিক অবদানের মূল্যায়ন করে দল তাঁকে মনোনয়ন দেবে বলে আমি আশাবাদী। আনিছ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দল মনোনয়ন দিলেই তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। অন্যথায় দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানাই।’
চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী মো. আনিছুজ্জামান আনিছ বলেন, ‘আমি বর্তমানে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউপি সদস্য। গত পাঁচ বছর একটি ওয়ার্ডের মানুষের সেবা করেছি। এখন ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চাই। নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘গরিব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে থাকব। পাশাপাশি মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখব। দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। দলের মনোনয়নের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। তবে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেব। আমার মূল লক্ষ্য জনগণের সেবা করা।’



