Logo
Logo
×

সারাদেশ

সাভার ও আশুলিয়ায় ১২০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম

সাভার ও আশুলিয়ায় ১২০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ, অন্যায়ভাবে ছাঁটাই বাতিল এবং আটক শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো অস্থিরতা বিরাজ করছে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া ও সাভারে। 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে হাজার হাজার শ্রমিক নির্ধারিত সময়ে নিজ নিজ কারখানায় শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেন। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশুলিয়ার কয়েকটি বড় কারখানায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। পরে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হলে প্রায় ১২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানায়, আশুলিয়ায় প্রথমে শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসেন। হাজার হাজার শ্রমিক সড়কে নেমে আসায় বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার সকালে জানান, দাবি আদায়ে আশুলিয়ার পাঁচটি কারখানায় প্রথমে কর্মবিরতি শুরু হয়। পরে আটটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা কাজ বন্ধের দাবিতে অন্যান্য কারখানার সামনে যান। পর্যায়ক্রমে বেলা ১১টার মধ্যে শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে বুধবার পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় সাভারে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানাসহ বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম (৪৮), জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম (৩৭) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী (৪৬)।

বুধবার রাতে সাভার ও আশুলিয়া থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় ২ হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এ নিয়ে সাভার-আশুলিয়ায় মোট ২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে শ্রমিক ছাড়াও ১৪ জন বহিরাগত রয়েছেন।

শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কাজে সহায়তার অভিযোগে বুধবার রাতে তিন শ্রমিক নেতাকে আটকের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন  বলেন, আজ অনেক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ কারখানার মালিকদের সিদ্ধান্ত। তারাই নির্ধারণ করবেন কারখানা খোলা রাখবেন, নাকি বন্ধ রাখবেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের নৈরাজ্য সহ্য করা হবে না।

ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশের ওসি সাইদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কাজে সহায়তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়েছে।

তবে তিন শ্রমিক নেতাকে আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন। তিনি দ্রুত তাদের মুক্তির দাবি জানান।

খায়রুল মামুন বলেন, সংলাপের পথ বেছে না নিয়ে গ্রেফতার, হামলা ও মামলা কোনো সমাধানের পথ নয়। বরং এ ধরনের পদক্ষেপ শ্রমিকদের আরও উসকে দেবে। শ্রমিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তিন শ্রমিক নেতাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনে গ্রেফতার শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান তিনি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামানসহ এপিসি।

এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেমায়েতপুর, পদ্মার মোড়, উলাইলসহ আরিচা ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কে অবস্থান করছেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন