শ্রমিক বিক্ষোভে আগুন-ভাঙচুর, ৬ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তপ্ত গাজীপুর। সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং বিজিবি-পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা অবরোধের পর বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে দুপুর ১টার পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ইতোমধ্যে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গাজীপুরে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও নাওজোর এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ইটের আঘাতে বিজিবির এক সদস্য আহত হন।
দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় পুলিশের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সময় টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এসএ টিভির এক ক্যামেরাপারসনও পায়ে আঘাত পান।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে দুপুর ১টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আন্দোলনকারীরা এখন আর সড়কে নেই।
এ দিকে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে গাজীপুরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, আজও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশ এবং শিল্প পুলিশ একসঙ্গে কাজ করছে।



