ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ
যুগের চিন্তা ২৪ অনলাইন
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ এএম
ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে শ্রমিকরা নিজ নিজ কারখানায় কাজে যোগ দিলেও পরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কারখানা ছেড়ে মহাসড়কে নামেন। সময়ের সঙ্গে আন্দোলনে আরও শ্রমিক যোগ দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে একটি পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে।
অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। সড়কের অনেক অংশ ফাঁকা হয়ে গেলে সেখানে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের কেউ ফুটবল, আবার কেউ ক্রিকেট খেলতেও দেখা যায়।
শ্রমিক আন্দোলনের প্রভাব শিল্পাঞ্চলেও পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে সফিপুর ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ দাবি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ চললেও এখনো সন্তোষজনক সমাধান হয়নি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।



