কুড়িগ্রামে এইচএসসিতে ৯ কলেজের একজনও পাস করেনি
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৭০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত শূন্য শতাংশ পাসের তালিকা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর বোর্ডের অধীন আট জেলার মোট ৪৯টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। এর মধ্যে একক জেলা হিসেবে কুড়িগ্রামেই সর্বোচ্চ ৯টি কলেজ রয়েছে।
শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী আদর্শ মহিলা কলেজ (পরীক্ষার্থী ২৪), নাগেশ্বরীর নাগেশ্বরী মডেল কলেজ (১৫), রাজারহাটের সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজ (১০) ও সিঙ্গার ডাবরীর হাট বি. এল. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৬), নাগেশ্বরীর কুটি পেয়ারা ডাঙা স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৫) ও চিলাখানা মডেল কলেজ (৪), উলিপুরের হযরত ফাতিমা (রা.) পৌর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (৩), চিলমারীর দক্ষিণ খাওরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২) এবং রাজারহাটের পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১)।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এ চিত্রের পাশাপাশি জেলার সার্বিক ফলাফলেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা গেছে। এ বছর কুড়িগ্রাম থেকে ১১ হাজার ৭২২ জন পরীক্ষার্থী (৫ হাজার ৬৮৩ ছাত্র ও ৬ হাজার ৩৯ ছাত্রী) অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ৪ হাজার ৭৭৩ জন। এতে জেলার গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪০.৭২ শতাংশ, যা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে ষষ্ঠ।
পাসের হারে ছাত্রদের (৩৫.৯৫ শতাংশ) চেয়ে এগিয়ে আছেন ছাত্রীরা (৪৫.২১ শতাংশ)। জেলায় মোট ১৩৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ৫৯ জন ছাত্র ও ৭৭ জন ছাত্রী।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী এলাকার এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব, শিক্ষক সংকট এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতিই এমন ফলের প্রধান কারণ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুড়িগ্রামের জেলা শিক্ষা অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “যেসব কলেজের সবাই অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে অফিস খুললেই পদক্ষেপ নিতে মাউশিতে লিখব। কলেজগুলো সরাসরি মাউশি নিয়ন্ত্রণ করে। এখানে আমার তেমন কিছু করার নেই।”



