নরসিংদীতে বয়লার বিস্ফোরণে ৫ দগ্ধের মধ্যে একজনের মৃত্যু
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
নরসিংদীর মাধবদীতে প্রিন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে কারখানার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. জামাল (৩৮) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কারখানার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারসহ ৫ জন দগ্ধ হয়।
ঢামেকের বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনুর রশিদ বলেন, দগ্ধ অবস্থায় রাত ৮টার দিকে আমাদের হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছে। এর মধ্যে সকালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামাল নামে একজনের মৃত্যু হয়। তার শরীরের ৬০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। এছাড়া চিকিৎসাধীন টিপুর ৯০ শতাংশ, ফয়সালের ২৫ শতাংশ, বাবুলের ৮ শতাংশ এবং শাজাহানের ৪ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তিনি আরও জানান, দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় টিপু ও জামালকে বার্ন ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের জরুরি বিভাগের অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে মাধবদীর বিরামপুর এলাকার কালীবাড়ি ডাইংয়ে বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মাধবদী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে নরসিংদী ফয়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এসে আগুন নির্বাপণে যুক্ত হয়। মাধবদী ও নরসিংদীর পাঁচটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কালীবাড়ি ডাইংয়ের স্বত্ত্বাধীকারী মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আমার অনেক বড় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের পরিবারের পাশে থেকে সারা জীবন সহযোগিতা করে যাবে। আমি যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর সার্বিক দায়-দায়িত্ব আমার নিজ তত্ত্বাবধানে বহন করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাধীন সকলের সার্বিক চিকিৎসা ব্যায় আমি নিজে বহন করবো। এছাড়া আমার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরের পরিবার শুধু তাদের নয়, তারা আমারই পরিবারের অংশ। তাই তাদের সকল দায় দায়িত্ব আমার।



