রূপগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্ব স্বাক্ষরের অভিযোগ
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলায় গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের মাহনা এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, এক ব্যক্তিকে অপহরণ, মারধর ও জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা মাহফুজুর রহমান খোরশেদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম (৫৫) বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান খোরশেদ রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য এবং গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০:৪০ ঘটিকায় মাহনা এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বাড়ি থেকে ভুলতা বাজারের উদ্দেশে বের হন। বেলা আনুমানিক ১১:০০ ঘটিকায় তিনি ভুলতা ইউনিয়নের ভুলতা বাজারের সামনে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিবাদী মাহফুজুর রহমান খোরশেদ (৪০), আল-আমিন ভূঁইয়া (৩৫), সৈয়দ রায়হান মোস্তাক (৩৬) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন তার পথরোধ করে। অভিযুক্তদের হাতে দা, লোহার রড, লাঠি-সোঠাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। কারণ জানতে চাইলে বিবাদীরা তাকে জোরপূর্বক একটি অটো গাড়িতে তুলে গোলাকান্দাইল প্রাইমারি স্কুলের পাশে এক ব্যক্তির দোকানে আটকে রেখে এলোপাথাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফোলা জখম করে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগীর ডাক-চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে বিবাদীরা রফিকুল ইসলামের নিকট থেকে জোরপূর্বক ৯টি নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে দেয়। স্বাক্ষর নেওয়ার পর বিবাদীরা তাকে ও তার পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বলে এই বিষয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে সুযোগ পেলে তোকে ও তোর পরিবারের যে কাউকে জীবনে শেষ করে ফেলব।
ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করা এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা কারে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও আইনি সহায়তা চাচ্ছেন।
রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য এবং গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি অভিযুক্ত মাহফুজুর রহমান খোরশেদ বলেন, যে ব্যক্তি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে বিদেশি আমি তার কাছ থেকে টাকা পাই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



