পাটুয়ারটেক ট্র্যাজেডি: ডিএনএ পরীক্ষার পর পরিচয় শনাক্তে লাগবে ৩ সপ্তাহের বেশি
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেক ট্যাজেডিতে নিহত ও নিখোঁজদের শোকার্ত স্বজনরা এখন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের আশে-পাশে ঘুরছেন। আবার অনেক স্বজনদের দেখা গেছে মর্গে রাখায় পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলোর কোন তার স্বজন তার শনাক্তের চেষ্টা করছেন। ফলে প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় হাসপাতালের মর্গের আশে-পাশে স্বজনের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। স্বজনদের দাবি, দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন করে মরদেহ হস্তান্তর এবং অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
যদিও প্রশাসনের পক্ষে জানানো হয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার পর ১০ মরদেহের পরিচয়ের শনাক্তের কাজটি সম্পন্ন করতে ৩-৪ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এর মধ্যে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের কাজটি শুরুও হয়েছে। যেখানে মরদেহগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা সন্তানের মতো নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হবে। দুই পক্ষের নমুনা পরীক্ষার ফল মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এরপর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহত ব্যক্তিদের এক স্বজন জানান, রবিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে পরিবারের চার সদস্য ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। মরদেহ দেখে নিশ্চিতভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার বিকল্প নেই। প্রথমে মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পরে পুলিশের মাধ্যমে সেগুলো ঢাকায় সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তিদের প্রথম-স্তরের আত্মীয়দের কাছ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা হবে। পরীক্ষার ফল মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আরএমও আরও বলেন, নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ এবং ফল মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ কাজে তিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে পরীক্ষার কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ডিএনএ পরীক্ষার নিজস্ব পরীক্ষাগার নেই। হাসপাতালের দায়িত্ব হলো মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা। এরপর ডিএনএ পরীক্ষা ও পরিচয় শনাক্তের পরবর্তী কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করবে।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো কোনটা কার শতভাগ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফলে পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার বিকল্প কোন পথ নেই।
স্বজনদের আর্তনাদে জবাবদিহির দাবিও:
ইনানী রিসোর্টের আগুনে নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহ বুঝে নিতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে এসে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন তাঁর স্বামী ফয়সাল জাহান। স্ত্রীর সঙ্গে শেষ ভিডিও কলের স্মৃতি বুকে নিয়ে শোক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাঁর। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত মরদেহ শনাক্তকরণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ফয়সাল জাহান বলেন, ‘আমি জানি, আমার স্ত্রী নাসরিন আক্তার মুক্তাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আমি চাই না, আর কোনো স্বামীকে এভাবে তাঁর স্ত্রী হারাতে হোক, আর কোনো পরিবারকে প্রিয়জনের মরদেহ খুঁজতে হাসপাতালে ছুটতে হোক।’
ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি ফয়সাল জাহান রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, কোনো রিসোর্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া পরিচালিত হলে এবং কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হলে তার দায় কার? তাঁর মতে, যাঁদের দায়িত্ব ছিল তদারকি করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আইন প্রয়োগ করা, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে ফয়সাল জাহান বলেন, ‘আমাদের স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই, কিন্তু বিচার নিশ্চিত করার ক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে।’
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দেশের সব হোটেল ও রিসোর্টের নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোরভাবে যাচাই করার দাবি জানান। তাঁর ভাষায়, ‘আমার স্ত্রীকে ফিরে পাব না, কিন্তু তাঁর মৃত্যু যেন আরেকটি পরিবারের মৃত্যুফাঁদ হয়ে না থাকে। আমরা শুধু শোক প্রকাশ নয়, জবাবদিহি চাই, বিচার চাই।’
অগ্নিকাণ্ডে বড় ভাই, ভাবি ও তাঁদের দুই শিশুসন্তানকে হারিয়েছেন নঈমুদ্দিন। পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে তিনি শোকে স্তব্ধ। তাঁর অভিযোগ, রিসোর্টে পর্যাপ্ত বহির্গমন পথ ও যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে হয়তো এতগুলো প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হতো।
নঈমুদ্দিন বলেন, ‘আমার বড় ভাই, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের দুই ছোট ছোট সন্তান-সবাইকে হারিয়েছি। এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমরা পুরো পরিবার ভীষণ মর্মাহত।’
তিনি বলেন, আগুন লাগার পর ভবন থেকে বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ থাকলে মানুষ অন্তত নিরাপদে বেরিয়ে আসার সুযোগ পেত। ভবন নির্মাণে কী ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, কোথায় এটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আগুন কীভাবে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, সেসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
নঈমুদ্দিনের ভাষ্য, সংবাদমাধ্যমে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখা হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে বন্ধু নাহিদকে হারিয়ে শোকাহত জুয়েল রানা। তিনি বলেন, ‘আমি নাহিদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বন্ধু। নাহিদ আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল, আমার কলিজার টুকরা ছিল সে। ওকে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’
জুয়েল রানা বলেন, এই ঘটনায় কেউ দায়ী থাকলে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। দায়িত্ব পালনে যাঁদের অবহেলা ছিল, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
আহত তিনজনকে ঢাকায়:
অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসক দম্পতিসহ তিনজনকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের আরএমও সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল।
তিনি বলেন, চিকিৎসক দম্পতি তুলনামূলকভাবে কম আহত হলেও নিজেদের ইচ্ছায় ঢাকায় যেতে চেয়েছেন। অন্যদিকে মেহেরুন্নিসা নামের এক নারী গুরুতর আহত হওয়ায় তাঁকে তাঁর স্বামীসহ ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আহত আরও দুজন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। তাঁদের আঘাত তুলনামূলকভাবে সামান্য হওয়ায় তাঁরা নিজেদের ইচ্ছায় ছাড়পত্র নিয়ে পরিবারের কাছে ঢাকায় চলে গেছেন। বর্তমানে অগ্নিকাণ্ডে আহত আর কেউ হাসপাতালে ভর্তি নেই বলে জানান তিনি।
১০ মরদেহ হলেও নিখোঁজের তালিকায় ১১ জন:
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সকাল ৮টার দিকে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন বিজিবি, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত ওই রিসোর্ট থেকে একে-একে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। একই সঙ্গে আহত হয়েছে ৭ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭ জন।
ওই রিসোর্ট ঘটনার সময় অবস্থানকারির বিবেচনায় নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন ১১ জন। স্বজনদের দাবি প্রেক্ষিতে ওই ঘটনায় নিখোঁজ ১১ জন হলেন, বনশ্রীর বাসিন্দা মো. আশিকুল ইসলামের স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), নাফিসতা মীম (২৭), নাফিজের বড় বোন ফারিয়া কবির (৩৩), তার পাঁচ বছর বয়সী ভাগনে ফায়িজান আহম্মেদ, ঢাকার সাভারের ‘স্বপ্ন বিলাস স্কুল’ নামের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), যশোরের নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬), দুই সন্তান রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)।
কিন্তু মরদেহ তো ১০টি। ফলে অপর একজন কোথায় ? জীবিত না মৃত এ নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয় ও প্রশ্ন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) ও এ ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান জানান, স্বজনদের দাবির প্রেক্ষিতে এখনও একজনের হদিস নেই। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ঘটনার সময় রিসোর্টটি ওই জন ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষায় ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হলে অপর নিখোঁজ জন কে তা পরিষ্কার হবে। এর জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে তদন্ত কমিটি:
রবিার সকাল ১১ টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রত্যক্ষদর্শী সহ সংশ্লিষ্ট স্থানীয়দের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সাথে সংশ্লেষ থাকা নানা বিষয়ে খোঁজ খবরে নিচ্ছেন।
এসময় ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়া টুপ টুপ রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন ধরণের অনুমোদন ছিল না। ঘটনায় আগুনের সূত্রপাতের কারণ সহ অনুমোদন না নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যরা তথ্য সংগ্রহ করছেন। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এর আগে চুড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা কোন ধরণের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
তবে তদন্তের পর অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটির কি কি ধরণের অনিয়ম রয়েছে তার সার্বিক তথ্যাদি উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
রিসোর্ট মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলায় ম্যানেজার কারাগারে:
পাটুয়ারটেক রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের মালিক তানভীরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রিসোর্টের ম্যানেজার সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মালিকপক্ষের অন্যরা পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, প্রতিষ্ঠানের মালিক বোয়ালখালীর বাসিন্দা তানভীর আহমদকে প্রধান আসামিকে করে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ১৯ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলায় ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনও আসামি। ইতিমধ্যে সুমনকে পুলিশ আটক করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে রিসোর্টের মালিক ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বাদী হয়ে মামলাটি করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের অবহেলার বিষয়টি সামনে এসেছে। যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই প্রতিষ্ঠানটি আবাসিক হোটেল বা রিসোর্ট হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
মামলায় প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা একজন ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মালিকপক্ষের অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



