কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টের ম্যানেজার সুমন আটক
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু ও ৬ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় টুপটুপ রিসোর্টটির ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনকে থানায় আটক রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। সকাল ৮টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুপুর ২টা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার এবং ৬ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন।
তিনি জানান, এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রিসোর্টটির প্রতিটি কক্ষ তারা তল্লাশি করতে পারেননি। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
নিহতের মধ্যে এই পর্যন্ত ৭ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও অন্য ৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।
পরিচয় পাওয়া ৭ নিহতরা হলেন, এরা হলেন, ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩), ফায়িজান আহম্মেদ (৫), আশুলিয়ার নাসরিন আকতার মুক্তা (২৮)।
এ ঘটনায় আহত ছয়জন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আনা হয়েছে। এরা হলেন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, আগুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের নেতৃত্বে উদ্ধার দল। এ ঘটনায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৬ জনকে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়। এর মধ্যে ৪জনকে ভর্তি করা হলেও ২ জনকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগুনের কারণ জানা যায়নি। ঘটনার তদন্তে এডিএমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, ঢাকায় এক প্রেসব্রিফিং-এ ফায়ার সার্ভিসের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জানিয়েছেন, পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টটির কোনো লাইসেন্স ছিল না এবং এ বিষয়ে আগে সতর্ক করা হলেও কর্তৃপক্ষ বৈধতা নেয়নি।



