Logo
Logo
×

সারাদেশ

নরসিংদীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় প্রতারক শাকিল গ্রেপ্তার

Icon

নরসিংদী প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

নরসিংদীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় প্রতারক শাকিল গ্রেপ্তার

নরসিংদীর মনোহরদীতে ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলায় প্রতারক শরিফুল ইসলাম শাকিলকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। তাকে বুধবার রাতে মনোহরদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাকিলকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি।

গ্রেপ্তারকৃত শাকিল মনোহরদী  উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের হাফিজপুর গ্রামের কাজী নজরুল ইসলাম বাদশাহর ছেলে।

জানা যায়, চালাকচর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার রোকেয়া আক্তারের স্বামী জাকির হোসেন চালাকচর বাজারে ভাড়া দোকানে ব্যবসা করবেন। দোকানের মালিক সাজ্জাদ আলী বাহার দোকান বিক্রি করে দিবে জানালে জাকির হোসেন দোকান কেনার জন্য ১৮ লাখ টাকা দেয়। কিন্তু বাহার দোকান বুঝিয়ে দেয় না, আবার টাকা ফেরত চাইলেও দেয় না। এনিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ চলতে থাকে। এরমধ্যে প্রতারক শাকিল দোকান মালিকের পক্ষ হয়ে রোকেয়া আক্তার ও স্বামীকে বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদর্শন ও চাপ দিতে থাকে। 

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শাকিল ভোক্তভোগীদের দোকানে গিয়ে সমস্যা সমাধান করে দিবে বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফেসবুকে বিভিন্ন মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে মানহানি করবে বলে হুমকি প্রদর্শন করে। পরে শাকিল তার ফেসবুকে রোকেয়া আক্তারের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজির বিভিন্ন পোস্ট দেয় ও তা স্থানীয় কিছু অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করে। আর ভুক্তভোগীকে প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদর্শন করতে থাকে। পরে ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার নরসিংদী জজ কোর্টে শাকিলকে আসামি করে চাঁদাবাজি ও মানহানির মামলা দায়ের করেন। 

পরে আদালত ডিবিকে তদন্তভার দিলে তারা ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে রিপোর্ট দেন। আর শাকিল আদালতে হাজির না হওয়ায় তার নামে আদালত ওয়ারেন্ট জারি করে। এরই প্রেক্ষিতে এসআরবি বুধবার রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাকিলকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে মনোহরদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ভুক্তভোগী রোকেয়া আক্তার বলেন, শাকিল একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। সে সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করে না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পোস্ট করে মানহানি করে। তার এসব কর্মকান্ডে মনোহরদীর বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অতিস্ট। আমরা তার বিচার চাই যেনো সে আর কারো মানহানি না করতে পারে।

স্থানীয়রা জানায়, শরিফুল ইসলাম শাকিল মনোহরদীতে বিভিন্ন পেশার মানুষদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য একটি চক্র নিয়ন্ত্রন করেন। তাদের কাজ রাজনীতিবীদ, প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন মানুষের কাছে নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করা। তাদের চাহিদা মত অর্থ না দিলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য পোস্ট করে হয়রানি করা। শাকিলের ফেসবুকে বিভিন্ন মানুষের বিরুদ্ধে পোস্ট এর সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। সে বিভিন্ন মানুষের কাছে টাকা চাওয়ার অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, শাকিলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলার ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার অপকর্মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন