ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়ে প্রতিনিয়ত স্কুলে আসা যাওয়া করে শিশু শিক্ষার্থীরা
মনোহরগঞ্জ, (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ পিএম
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বাতাবাড়িয়া (পূর্ব) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পর হয়ে প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে। বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে খালের উপর থাকা বাঁশের সাঁকোটি শিক্ষার্থীদের জন্য যেন মরণ ফাঁদ। অচিরেই শিশুদের নিরাপত্তায় খালের উপর থাকা কালভার্টের দু’পাশে এপ্রোচ সড়কে মাটি ভরাট করে চলাচল উপযোগী করার দাবী জানান এ এলাকার বাসিন্দরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বিদ্যালয়টির প্রবেশ পথে দক্ষিণ পাশে খালের উপর একটি কালভার্ট রয়েছে। দু’পাশে সংযোগ সড়কে মাটি না থাকায় কালভার্টটি পার হতে এখানে তৈরী করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। শিক্ষকরা জানান স্কুল ব্যাগ কাঁধে নিয়ে দুহাতে খুঁটি ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো পাড়ি দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০৬ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এটি একটি অবহেলিত বিদ্যাপিঠ হিসেবে এ এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত। ভৌগলিক কারনে বিদ্যালয়টির দক্ষিন ও পুর্ব পাশে খাল। বিদ্যালয়ের সামনের অংশে রয়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি বড় পুকুর। এ পুকুরে রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ শতাংশ জমি। বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ বলে কিছুই নেই। কর্তৃপক্ষের নজরদারি অভাবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এর খেসারত দিচ্ছে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পাশেই কুমিল্লা-নোয়াখালি আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থান হলেও উন্নয়ন যাত্রায় এটি পিছিয়ে আছে বহুগুন। বিদ্যালয় এলাকার আশপাশে গ্রামীন সড়কের অবকাঠামো কাঁচা হওয়ায় গৃষ্মকালে যেমন তেমন বর্ষাকালে কর্দমাক্ত সড়ক মাড়িয়ে স্কুলে যাওয়াটা শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য চরম বিড়ম্বনার হয়ে উঠে।
বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা হলে তারা সন্তানদের বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত শংকায় থাকার কথা জানান। তারা বলেন ঝুঁকিপূর্ণ এ সাাঁকোটি পার হতে বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন এ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা। এলাকাবাসীর উদ্যোগে নিজস্ব অর্থায়নে প্রতি বছর এটি মেরামত করা হয়। বছরের পর বছর চলমান এ সংকট নিরসনে জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার কেউই এগিয়ে আসেনি। বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে খালের উপর থাকা কালভার্টের দুপাশে এপ্রোচ সড়কে সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে মাটি ভরাট করা হলে এ বিদ্যাপিঠের শিক্ষার্থীরা এমন দুর্ভোগ থেক মুক্তি পেত বলে জানান তারা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ওমর ফারুক এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন শিক্ষার্থীদের নির্বিগ্নে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া নিশ্চিত করতে দক্ষিণ পাশে খালের উপর থাকা কালভার্টের দু’পাশে এপ্রোচ সড়ক তৈরী অত্যান্ত জরুরী। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথ সুগম হবে। তাছাড়া বিদ্যালয়টিতে খেলার মাঠ, শহীদ মিনার, সুপেয় পানির সংকটসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন তিনি। বিদ্যালয়ের দৈনিক সমাবেশ (এ্যাসেম্বলী) কোথায় করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন মাঠ না থাকায় নিয়মিত দৈনিক সমাবেশ হয় না। মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ের বারান্দায় গাদাগাদি করে সমাবেশ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এমন বন্দীদশা থেকে মুক্তি চান এ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন বিদ্যালয়ের সামনে খেলাধুলার জায়গা না থাকায় শিশু শিক্ষার্থীদের আউটডোর কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। মাঠ ভরাটের জন্য বরাদ্ধ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি। ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে শিশুদের পারাপার বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন বিষয়টি উপজেলা এলজিইডিকে অবগত করা হবে।



