বাংলা সাহিত্যের সত্তর দশকের অন্যতম কবি ও সম্পাদক অমিত চৌধুরী আর নেই। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামেরেএকটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত করেছেন।
১৯৫২ সালের ১৪ এপ্রিল কক্সবাজার শহরেই তিনি জন্মগ্রহন করেন। তাঁর প্রকৃত নাম সতীন্দ্রনাথ দে এবং বন্ধু মহলে সন্তোষ নামে পরিচিত থাকলেও অমিত চৌধুরী নামেই তিনি লেখা-লেখি করতেন।
বাব রমেশ চন্দ্র দের আদি নিবাস সীতাকুণ্ড। ১৯৪৩ সালের শুরুতে পিতা কক্সবাজারে চলে আসেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর শেষে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। পেশাগত জীবনে তিনি চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা কলেজে (সরকারি বিএড কলেজ, চট্টগ্রাম) অধ্যয়নকালে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। পাক হানাদার বাহিনী কক্সবাজার দখলে নেওয়ার পুরো পরিবারসহ তিনি বার্মার আরাকানে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে ফিরে এসে আবার লেখাপড়ায় মনোযোগ দেন এবং ওই সময়ই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে জড়িত হন।
১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা কলেজে অধ্যয়নকালে ‘বৈজয়ন্তী’ সম্পাদনা করেন। ১৯৭৬ সাল থেকে ‘মূল্যায়ন’ নামে সৃজনশীল সাহিত্যপত্রিকা সম্পাদনা করে আসছেন। বেশ কিছু ব্যক্তি ও বিষয়ের ওপর মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা প্রকাশিত হয়ে আসছিল। কবিতা, ছড়া, লিরিক, প্রবন্ধ চর্চা করে আসছেন সত্তরের দশক থেকে।
প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে ‘চোখে রেখেছি তোমার চোখে’ (১৯৮৪), ‘শিপ্রা যমুনার ধারা’ (১৯৮৬), ‘জুই নয় পৃথ্বী’ (১৯৮৮), ‘রাজা আসছে রাজা কার’ (১৯৯১), ‘ঘাতক কসাই মহিমাকে ফেরত চাই’ (২০০৪), ‘মরণ বাংলাদেশটায়’ (২০০৫), ‘ধোঁকাবাজ ধোঁকারাজ’ (২০১০) উল্লেখযোগ্য।
সম্পাদনা গ্রন্থের মধ্যে স্বৈরাচারবিরোধী কাব্যসংকলন ‘অ্যালবাম : গণআন্দোলন ১৯৮১–১৯৯০’ (ইউসুফ মুহাম্মদ সহযোগে), সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কাব্যসংকলন ‘শেকল ছেড়ে’ (১৯৯৪), গবেষক আবদুল হক চৌধুরী কর্মশীল মূল্যায়ন (১৯৯৫), যুদ্ধবিরোধী কাব্যসংকলন ‘কোথাও বেজেছে পায়োজ’ (প্রথম প্রকাশ ২০০৩, দ্বিতীয় সংস্করণ ২০০৭) উল্লেখযোগ্য।
কবির মরদেহ কক্সবাজারে আনার পরই তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হবে বলে পরিবার সূত্র জানিয়েছেন।



