Logo
Logo
×

সারাদেশ

কক্সবাজারে সাইবার অপরাধের মামলায় চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিকের রিমান্ড মঞ্জুর

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

কক্সবাজারে সাইবার অপরাধের মামলায় চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিকের রিমান্ড মঞ্জুর

কক্সবাজারে সাইবার অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার চীন ও তাইওয়ানের ৬ নাগরিককে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের সিনিয়র বিচারিক হাকিম এসএম গিয়াস উদ্দিনের আদালত এই আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আবুল কালাম তাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেনে মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শওকত ওসমান। তিনি বলেন, আসামিদের অপরাধের সংশ্লিষ্টতা আরও গভীরভাবে তদন্ত ও ডিভাইসগুলোর আরও তদন্তের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক তিনদিনের মঞ্জুর করেছেন।

অন্যদিকে আসামীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, সাইবার অপরাধের সত্যতা বের করা যেমন জরুরী তেমনি গ্রেফতারকৃতরা যদি পর্যটক বা অন্যান্য কাজে এসে থাকেন তাহলে তাদের আইনিভাবে মুক্তি পাবার সুযোগ রয়েছে। অন্যথায় দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে।

এর আগে সকাল নয়টার দিকে ৬ বিদেশি নাগরিককে কারাগার থেকে আদালতে তোলা হয়। পরবর্তীতে শুনানী শেষে আদেশের পর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুর হিমছড়ির সমুদ্র সৈকতের পাশে তিনটি রিসোর্ট ও একটি আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়ে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রের আস্তানা তৈরি অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতারের পর মামলা দায়ের করে রামু থানার পুলিশ।

পুলিশের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, আড়াই থেকে তিন শতাধিক চীন ও তাইওয়ানের নাগরিক সেখানে অবস্থান করে গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। সেখানে একটি রিসোর্টের হলরুমে তৈরি করা হয়েছিল কম্পিউটার ল্যাব। ছিল ছয়টি সাউন্ডপ্রুফ কক্ষ। এসব কক্ষ থেকে উদ্ধার হয় বিভিন্ন মডেলের ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিপুল সংখ্যক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের দাবি, চক্রটি অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে গত ২৫ আগস্ট অভিযানের আগে চক্রটির সদস্যরা পালিয়ে যান। এরপর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিটিটিসি) একটি দল।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত মার্চে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন চীন ও তাইওয়ানের নাগরিক বাংলাদেশে আসেন। পরের মাসে তারা রামুর মেরিন ড্রাইভের মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্ট, ড্রিম হলিডে রিসোর্ট, অর্কিড বু রিসোর্ট এবং ইলিয়াস ব্রাদার্স নামের একটি আবাসিক ভবন ভাড়া নেন।

রিসোর্টগুলো ভাড়া নেওয়ার পর ভবনগুলোর পুরোনো সেটআপ পরিবর্তন, নতুন করে সাজসজ্জা, নিরাপত্তাকর্মী ও জনবল নিয়োগসহ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন চক্রের সদস্যরা। পুলিশের দাবি, পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বিদেশি নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, হিমছড়ির মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্টের একটি হলরুমে তৈরি করা হয় কম্পিউটার ল্যাব। পাশাপাশি ছয়টি সাউন্ডপ্রুফ কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, এসব কক্ষে বিভিন্ন মডেলের আইফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ নানা ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে গোপনে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল।

পুলিশের বিশেষ শাখার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল থেকেই বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। বিদেশি নাগরিকেরা আবাসিক হোটেলে অবস্থান করলে তাদের পাসপোর্টের কপি ও অন্যান্য তথ্য ডিএসবি কার্যালয়কে জানানোর নিয়ম থাকলেও চারটি প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।

পরবর্তীতে ডিএসবি কর্মকর্তারা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান, ‘বাবর আলী’ নাম ব্যবহার করে চীনের নাগরিক ঝান ইউয়ান ফান এপ্রিল থেকে রিসোর্টগুলো ভাড়া নেন।

পুলিশের বিশেষ শাখার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ‘জিন শিন নির্মাণ কোম্পানি’ নামে একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানি স্থাপনের কাজের অংশ হিসেবে তারা সেখানে অবস্থান করছেন। তবে ডিএসবি অনুসন্ধানে এ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, পরে পুলিশ বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বাংলাদেশে অবস্থানের বৈধতা, উদ্দেশ্য, ভিসা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চায়। কিন্তু তারা সন্তোষজনক তথ্য বা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি স্থাপনের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযানের সময় মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্টের একটি হলরুম থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কিবোর্ড, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার, ৪০টি মাউস, একটি আইপিএস ও ২৪টি কানেকশন বোর্ডসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া চীনা পুলিশের র‌্যাংক ব্যাজ, চীনের জাতীয় পতাকা এবং পুলিশ লোগোযুক্ত একটি টাই উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করা হয় মামলার এজাহারে।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা আলামত প্রথমে মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্টের জেনারেল ম্যানেজারের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে ৩ সেপ্টেম্বর সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সেগুলো জব্দ তালিকামূলে পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়েছে।

মামলার এজাহারে আরও চারজন চীনা নাগরিকের নাম উল্লেখ করে তাদের পলাতক দেখানো হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় রামু থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২১, ২২, ২৪ ও ২৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

সাইবার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা দায়ের করা হয়৷ পরবর্তীতে সেই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত (সিআইডি)।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন